আদালতে আসামির মাথায় আইএসের টুপি!

  • ২৭-Nov-২০১৯ ০২:৩৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় বুধবার দুপুরে ৭ জনের ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। আদালতের কক্ষে হাজির রিগ্যান নামের এক আসামির মাথায় ছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের লোগো সংবলিত টুপি।

এ নিয়ে এরইমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। রায় ঘোষণার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রিগ্যানের মাথা আইএসের টুপি এল কীভাবে- তদন্ত করা দরকার।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১২টার কিছু পর আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান।

এসময় আসামিরা চিৎকার-চেঁচামেচি করে রায় মানি না, মানি না বলতে থাকে। প্রথমে বড় মিজানকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। এসময় তাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায় এবং আল্লাহু আকবর বলতে বলতে প্রিজনভ্যানে ওঠেন তিনি।

প্রিজনভ্যানে ওঠার পরেও আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে এ রায় না মানার কথা বলতে থাকেন তারা। এদের একজন আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ মাথায় আইএস'র কালো পতাকা বেঁধে আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি লিফটে ওঠার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সামনেই আইএসের প্রতীক চিহ্নিত কালো টুপি পরেন।

আসামি হাদিসুর রহমান সাগর প্রিজনভ্যান থেকে বলতে থাকেন, আমরা কিছু করিনি। আমাদের কেন ফাঁসি দেওয়া হলো?

রাশেদ বলেন, আমরা ফাঁসি ভয় পাই না। আমরা খেলাফত যোদ্ধা।

তারা উত্তেজিত হয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিতে থাকেন। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অকথ্য কথা বলতে থাকেন। সবাই ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। ফাঁসির আদেশ শোনার পরও কারও মধ্যে কোনোরকম ভীতি লক্ষ্য করা যায়নি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এমন আস্ফালনে আদালত প্রাঙ্গণে অনেকেই বেশ অবাক হন। তাদের এই চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেই আসামিদের বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত চত্বর ছেড়ে যায়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসা‌মিরা হ‌লেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ। খালাস পেয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির (আত্মঘাতী) সদস্যরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পাঁচ জঙ্গি।

Ads
Ads