হাঁড়ির ভাতের অপেক্ষায় ক্ষুধার্ত দুই শিশু!

  • ২২-Nov-২০১৯ ০৮:১৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাতের রাজধানী ঝলমলে, বর্ণিল। তবে কোথাও কোথাও একদমই ভিন্ন রূপ। শুধু অন্ধকার আর হাহাকার। যেখানে রয়েছে সীমাহীন ক্ষুধা আর প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার আকুতি।

সম্প্রতি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে পলাশীগামী রাস্তার মাঝামাঝি ফুটপাতে তেমনি এক দৃশ্য চোখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাত ঘেঁষা রাস্তার পাশে ছোট্ট বাক্স দিয়ে বানানো চুলায় একটি ভাতের হাঁড়ি বসানো হয়েছে। আধো আলো আধো অন্ধকারে ফুটপাতের ওপর থেকে সেই ভাতের হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছে দুটি শিশু। 

ওই শিশু দুটির মা চুলায় রান্না করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আর রান্নায় ব্যবহৃত কাঠের লাকড়ির আগুনের উজ্জ্বল আলোর দিকে শিশু দুটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

অপেক্ষাকৃত বয়সে বড় শিশুটি তার মাকে প্রশ্ন করে, মা, হেই যে সকালে রুটি দিলা, আর তো কিছু দিলা না। ক্ষুধায় পেডটা জ্বলতাছে। এর উত্তরে শিশুটির মা বলে, এইতো বাবা ভাত অইয়া গেছে। একটু অপেক্ষা কর, এই যে আলু কাটতাছি, ভাতের লগে আলু দিমু।

জানা গেছে, নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে দুই বছর আগে লালমনিরহাট থেকে জীবিকার সন্ধানে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় আসেন রেশমা বেগম। লালবাগ ও রমনা থানার বিভিন্ন ফুটপাতে তাদের দিন কাটে। কিন্তু কয়েকদিন পরপর পুলিশের তাড়া খেয়ে এক ফুটপাত থেকে আরেক ফুটপাতে ঘুরে বেড়াতে হয়। 

রেশমা বলেন, এদিন পুলিশ ঘর ভেঙে দেয়ায় সারাদিনই মালপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। তাই চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেননি। পুলিশ চলে গেলে ফুটপাতের বিপরীত দিকের রাস্তায় নতুন করে পলিথিন দিয়ে ঘর বানান। এরপর এক কেজি চাল চুলায় বসান।

দেখা গেছে, অভাবের তাড়নায় শুধু রেশমা নয়, একই এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রে ফুটপাতে বাস করে। এদের মধ্যে কেউ রিকশা চালায়, আবার কেউ চায়ের দোকানে কর্মচারী, কেউ বা বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, আবার কেউ ভিক্ষা করে সংসার চালায়।

ফুটপাতের পাশেই বসে থাকা হাজেরা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা বলেন, ক্ষুধার তাড়নায় ঢাকা শহরে এসেছি। কয়েকদিন পরপর পুলিশের তাড়া খেয়ে এক ফুটপাত থেকে আরেক ফুটপাতে দিন কাটে। এ জীবন আর ভালো লাগে না।

Ads
Ads