'সন্তানেরা আবারও রাস্তায় নামলে আমাদের কারও পিঠের চামড়া থাকবে না'

  • ২১-Nov-২০১৯ ০৫:২৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এটাই আমাদের শেষ সুযোগ। সড়কে বিশৃঙ্খলা হলে আবারও যদি আমাদের সন্তানেরা রাস্তায় নামে, তাহলে আমাদের কারও পিঠের চামড়া থাকবে না। সেটা আমি পুলিশ কমিশনার-ই হই, আর আপনি পরিবহন মালিক সমিতির বড় নেতাই হোন। 

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইনটা করা হয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য। সরকার ও ট্রাফিক পুলিশের কিন্তু জরিমানা আদায়ের উদ্দেশ্য না। আমরা এখন ঢাকা মহানগরীতে প্রতি মাসে ৬-৭ কোটি টাকা জরিমানা করি। সরকারের কাছে এই টাকা একেবারেই নস্যি, সরকারের এই টাকার প্রয়োজন নাই। আমি কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর ট্রাফিকে যারা আছেন তাদের বলে দিয়েছি, মামলার কোনো টার্গেট নাই। সড়কে শৃঙ্খলা থাকলে মামলা করার প্রয়োজন নাই। মূল বিষয় হলো সবাই যদি আইনটা মেনে চলে, তাহলে মামলায় যাওয়ার প্রয়োজন নাই।

তিনি বলেন, নতুন এই আইনের পর আমরা মালিক-শ্রমিক-পুলিশ যদি সড়কে শৃঙ্খলা আনতে না পারি, তাহলে আমাদের সন্তানরা সম্মিলিতভাবে আমাদের রাস্তা থেকে তুলে দেবে। রাস্তায় আপনিও নামতে পারবেন না, আমিও ডিউটি করতে পারবো না। 

‘সহ্যের একটা সীমা থাকে। ধরুন, আপনার একটা ভুল বা আমার একটি ত্রুটির কারণে এমন একটি মানুষ মারা গেলো, যার বাসায় দুটি বাচ্চা রয়েছে এবং তাদের মুখে ভাত দেওয়ার মতো কর্মক্ষম আর কেউ নেই। সেই মানুষটির কথা কি আমরা কেউ চিন্তা করি? অব্যাহতভাবে আমার সন্তান রক্তাক্ত হবে আর আমরা আনফিট গাড়ি নিয়ে, অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে বছরের পর বছর গাড়ি চালিয়ে যাবো। এটি মানুষ বেশিদিন সহ্য করবে না,’ যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমাদের সবাইকে  এই আইন বাস্তবায়নে আসতেই হবে। আপনার সন্তানের জন্য, সবার নিরাপত্তার জন্য আইন মেনে চলুন। পুলিশের সহযোগিতা নিন, আসুন সবাই মিলে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

ডিএমপির এই ট্রাফিক সচেনতামূলক পক্ষ ২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

Ads
Ads