১৫ লাখ টাকায় ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিক্রি করলো দিনাজপুরের রাহুল-ইনান!

  • ২১-Nov-২০১৯ ০৩:১৭ অপরাহ্ন
Ads

উৎপল দাস
মেয়াদোর্ত্তীণ দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি তানভীর ইসলাম রাহুল এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম ইমতিয়াজ ইনানের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাবেক সাধারণ এস এম জাকির হোসাইন ১৭ অক্টোবর ২০১৭ সালে রাহুল-ইনান কমিটির অনুমোদন দেয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিই করতে পারেননি। 

দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের একটি অংশ জানিয়েছে, মেয়াদোর্ত্তীণ জেলা কমিটির শীর্ষ দুই নেতা এখনো পর্যন্ত এক সাথে কোনো মিটিং মিছিলই করতে পারেননি। তারা আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। 

এদিকে, চলতি ৭ নভেম্বর ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি তানভীর ইসলাম রাহুল এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম ইমতিয়াজ ইনান। কমিটি অনুমোদনের পরই বিতর্কিতদের ঠাঁই দিয়ে কমিটি করায় প্রতিবাদ শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে যাকে মনোনীত করা হয়েছে সেই আশরাফুল ইসলামের ছাত্রলীগ করার বয়স শেষ হয়ে গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ৩০ জুলাই ১৯৮৯ ইং। এছাড়া তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর ইসলাম রাহুলকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। 
এছাড়া ঘোড়াঘাট উপজেলার ১৭ জনের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া সুজিত কুমার শুভ কাছ থেকে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম ইমতিয়াজ ইনান তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদ দিবেন-এই কথা বলে। কিন্তু তিনি কথা রাখেন নি। 

এদিকে, ঘোড়াঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া শাহীন মণ্ডল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম ইমতিয়াজ ইনানকে ৭ লাখ টাকারও বেশি দিয়েছেন। শাহীন মণ্ডলের কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রমাণাদি ভোরের পাতার কাছে এসেছে। 

এমনকি টাকা চেয়ে রাহুল ও ইনান উভয়ই বিভিন্ন প্রার্থীকে নানা সময় চাপ দিয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো প্রার্থীকে মোটরসাইকেল বিক্রি করে টাকা দেয়ার জন্যও বলেছেন বলে এমন অডিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্ত কমিটির হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। 

টাকার বিনিময়ে কমিটি বিক্রি করার বিষয়ে জানতে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর ইসলাম রাহুলকে ফোন করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে  জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম ইমতিয়াজ ইনান ভোরের পাতাকে বলেন, উপজেলা কমিটি করার জন্য আমি কোনো টাকা নিই নি। তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাদের জেলা কমিটির কাছে যেসব নামের তালিকা পাঠিয়েছেন আমরা শুধু সেখানে স্বাক্ষর করেছি মাত্র। 

এদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভোরের পাতাকে বলেন, টাকার বিনিময়ে কোনো কমিটি দেয়ার কোনো ধরণের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথেই জেলা কমিটির দুজনকে সংগঠনকে অব্যাহতি দেয়া হবে। এমনকি জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াতে শীঘ্রই সেটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেয়ার পক্রিয়া চলছে। 

Ads
Ads