সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

  • ২১-Nov-২০১৯ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আজ ২১শে নভেম্বর, সশস্ত্র বাহিনী দিবস। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রযাত্রা এবং বিজয় গৌরবের স্মারক হিসেবে এই দিনটি প্রতিবছর পালিত হচ্ছে। এবছর পালিত হচ্ছে ৪৯তম সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ এবং প্রস্তুত করে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি সেনা, ছাত্র, ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটি সামরিক বাহিনী। শুরু হয় দুর্বার মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭১ সালে গঠিত অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার এম এ জি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। সমন্বিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। জুলাইয়ে গঠন করা হয় ৩টি নিয়মিত ব্রিগেড জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্স। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৫টি ব্যাটালিয়ন ছাড়াও যুদ্ধ চলাকালে আরো ৩টি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে পদ্মা ও পলাশ নামের দুটি গানবোট এবং নৌ কমান্ডোদের নিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। তারা ১০ নন্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। ফ্রান্সের প্রশিক্ষণ থেকে পালিয়ে আসা ৮ বাংলাদেশি ও দেশে থাকা নাবিকদের নিয়ে তৈরি হয় নৌ-কমান্ডো। আগস্টের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেন তারা। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ২৬টি জাহাজ ধ্বংস এবং সমুদ্রপথ অচল করে দেয় এ বাহিনী।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সূচনা হয় ১৯৭১ এর ২৮শে সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ধীমাপুর ঘাঁটিতে। ১০ জন পাইলট, ৬৭ জন টেকনিশিয়ান, ১টি এলয়েড থ্রি হেলিকপ্টার, ১টি অটার ও ১টি ড্যাকোডা উড়োজাহাজ নিয়ে গঠন করা হয় এ বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুসমূহের ওপর ৫০টি সফল হামলা চালায় কিলো ফ্লাইট নামে কাজ শুরু করা বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধ বেগবান করতে ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর বাংলাদেশের সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনী সম্মিলিত ভাবে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। স্থল-নৌ ও আকাশ পথে ত্রিমুখী আক্রমণে খুলে যায় বিজয়ের পথ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে।

৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে প্রতি বছর ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২১ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এই সংবর্ধনায় উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতগণ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণ, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্যগণ (ঢাকা এলাকার), প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাগণ, বাহিনীত্রয়ের প্রাক্তন প্রধানগণ, ২০১৯ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারীগণ, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাগণ এবং তিন বাহিনীর চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে।

 

/কে 

Ads
Ads