বাস চলছে না বিভিন্ন জেলায়, ভোগান্তির শেষ নেই যাত্রীদের

  • ২০-Nov-২০১৯ ১২:৩০ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো দেশের বিভিন্ন জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।

বুধবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকে সাতক্ষীরা, ঝালকাঠি, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় কোনো বাস চলাচল করছে না। এতে সাধারণ যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নছিমন, করিমন ও ইজিবাইক যোগে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

এর আগে গত সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট আজ বুধবার তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবি- আইন সংশোধনের পর এটি বাস্তবায়ন করা হোক। এটা না করা পর্যন্ত তাদের এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা থেকে খুলনা, যশোর, শ্যামনগর, আশাশুনিসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। তারা চান, আগে এটি সংশোধন করা হোক। এরপর এটি বাস্তবায়ন করা হোক।

ঝালকাঠি: একই দাবিতে ঝালকাঠির আট রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকালে বাসস্টান্ডে গিয়ে দেখা গেছে ঝালকাঠি-বরিশাল, ঝালকাঠি-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার আট রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে খুলনা, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুর, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে ভান্ডারিয়া, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে মঠবাড়িয়া, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পাথরঘাটা, ঝালকাঠি-আমুয়া, ও ঝালকাঠি-ঢাকার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খুলনা: খুলনার অভ্যন্তরীণ রুটে সকাল থেকে বাস চলাচলের কথা থাকলেও তা করেনি মালিক-চালকরা। যে কারণে তৃতীয় দিনের মতো চালকরা বাস বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। এদিকে সকালে বাস ছাড়বে এমন খবরে সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল, রয়্যাল ও শিববাড়ির মোড়ে যাত্রীরা দূর-দূরান্তে যাত্রার উদ্দেশ্যে আসলেও বাস না ছাড়ায় আশা ভঙ্গ হয়। ফলে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। নগরীর অধিকাংশ বাস কাউন্ডার বন্ধ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, কাঁচপুরসহ ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তারা সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ও কাঁচপুরে দেখা গেছে, শ্রমিকরা বিভিন্ন পরিবহনের বাস দিয়ে রাস্তা আটকে যান চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন।

পটুয়াখালী: নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনের দাবিতে পটুয়াখালীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ও ধর্মঘট করছেন বাস চালকরা। সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই দাবিতে জেলার চৌরাস্তা থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরাও ধর্মঘট করেছেন। এদিকে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটকসহ অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় গত দুই দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের আকস্মিক এ ধর্মঘটে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

Ads
Ads