দেশের সব সেক্টর হোক দুর্নীতিমুক্ত

  • ১২-Nov-২০১৯ ১০:৩২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে রেখেছে স্বাধীনতার শত্রুরা। দুর্নীতি আর হরিলুটে ব্যস্ত থেকে দেশের বিভিন্ন সেক্টরকে করেছে নিম্নগামী। স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী শক্তি মুখোশের আড়ালে এমন সব মর্মান্তিক কর্মকাণ্ড সম্পাদনে পিছপা হয়নি কখনোই। কখনো কখনো ক্ষমতাসীন দলে ভিড়ে চুষে নিয়েছে জনতার রক্ত। বঙ্গবন্ধুকন্যা তার দূরদর্শিতা দিয়ে খোলসাবদ্ধ এসব দুর্নীতিবাজকে বের করেছেন। যারা দেশের মধ্যে থেকে দেশেরই অন্ন খেয়ে দেশেরই বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণে রয়েছে তার নির্দেশ। আর এসব অপকর্মকারীর বিরুদ্ধে তিনি দিয়েছেন কঠোর হুঁশিয়ারি। ছাত্রলীগ থেকে শুরু হয়েছিল এই শুদ্ধি অভিযান এখন সব দলে, সব সেক্টরেই বিরাজ করছে এই তৎপরতা। যুবলীগসহ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে ঠাঁই নেওয়া মুখোশাবৃতদের অনেককেই ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খোলসাবৃত হয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া নৈতিকতার প্রতিচ্ছবি ছাত্ররাজনীতির রোল মডেল ছাত্রলীগকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন তাদের খোলস খুলে দল থেকে করা হয়েছে বিতাড়িত। 

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। উন্নয়ন প্রকল্পে সব সেক্টরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত সোমবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, সব সেক্টরে দুর্নীতিবাজ লোকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘নিজের ঘর থেকে শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযানের সূচনা করেছেন। অন্যান্য দলেও অনেকে বড় বড় কথা বলছেন। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, দুর্নীতি করে কাদের আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। খোঁজ নেওয়া হবে প্রশাসনে কারা দুর্নীতিবাজ। সব সেক্টরে খারাপ লোকদের খুঁজে বের করা হবে। দশটা ভালো কাজকেও একটা খারাপ কাজ ঢেকে দিতে পারে, মøান করে দিতে পারে। শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে।’ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা মাদককে না বলুন। দুর্নীতিকে না বলুন। সন্ত্রাসকে না বলুন।

টেন্ডারবাজিকে না বলুন। চাঁদাবাজিকে না বলুন। ভূমি দখলকে না বলুন। অন্যের বাড়ি দখলকে না বলুন। পরিষ্কার ম্যাসেজ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এই ম্যাসেজ আমি সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মীদের কাছে, নেতাদের কাছে দিয়ে গেলাম। চাঁদাবাজরা, মাদক ব্যবসায়ীরা সাবধান। লুটেরারা সাবধান, সন্ত্রাসীরা সাবধান। দুর্নীতিবাজরা সাবধান। এদের ঠাঁই নেই শেখ হাসিনার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগে। মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরদিন থাকে না। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না কেউ। বসন্তের কোকিলদের এনে দল ভারী করার চেষ্টা করবেন না। আমরা দুঃসময়ের কর্মী চাই, বসন্তের কোকিল চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে পরিমাণগত ব্যাপকতার কমতি নেই। সংখ্যার আমাদের কর্মীর অভাব নেই। সমর্থকের অভাব নেই। আমাদের পার্টিতে দূষিত রক্ত আমরা আর চাই না। এই দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে। বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে। অশুদ্ধকে শুদ্ধ করতে হবে। কে কত প্রভাবশালী তারচেয়েও বড় কথা হচ্ছে আমরা চাইবো ক্লিন ইমেজের কর্মীদের নেতা বানাতে। খারাপ লোক কোনো দরকার নেই। খারাপ লোকেরা দলের দুর্নাম ডেকে আনে। দুঃসময় এলে এই খারাপ লোকদের হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

দেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর মাধ্যমে দেশীয় সব টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য আমাদের ওই সব উইপোকাকে আটক করতে হবে।’ সে সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখব। এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল-পরিবার নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকারের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে রয়েছে। বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির দায়ে সম্প্রতি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরই ছাত্রলীগের পদ হারান শোভন-রাব্বানী। এর পর আটক হন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বেড়িয়ে আসে কয়েকশ কোটি টাকার ক্যাসিনো ব্যবসার নেপথ্যের কাহিনি। যুবলীগে মিশে থাকা আরেক উইপোকা ক্ষমতাধর সাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকেও গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রিমান্ডে নিলে বেরিয়ে আসে আসল খবর। দেখা যায়, মূলত ক্যাসিনোর হোতা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার পুত্র তারেক রহমান।

জুয়ার টাকা বস্তায় বস্তায় যেত তার কাছেই। আর রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত শামীম বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গণপূর্তে এই শামীমই ছিলেন, যিনি বিএনপির পরিচয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি। ধরা পড়ার সময় ছেড়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি প্রস্তাব দেনÑ ‘দশ কোটি দিচ্ছি, প্রয়োজনে আরও দেবো।’ তবুও পার পাননি তিনি। সুতরাং সাবধান সব উইপোকা। 

Ads
Ads