ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তিনদিন যাবত বিদ্যুৎ নেই কালকিনিতে

  • ১২-Nov-২০১৯ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
Ads

সিরিয়াল দিয়ে ৫০ টাকায় মোবাইল চার্জ

:: মেহেদী হাসান সোহাগ মাদারীপুর ::

ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তিনদিন যাবত বিদ্যুৎ নেই মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসহ এলাকার লক্ষ-লক্ষ মানুষ। তাই এই চরম দুভোর্গের মধ্যে কালকিনি উপজেলা শহরে এসে বেল্লাল ডেকোরেটর, দুলাল ডেকোরেটর, আলিহোসেন ডেকোরেটরসহ গোপালপুর, ভুরঘাটা, কালকিনি থানার মোড়, মাছ বাজারসহ প্রায় ২০টি দোকানে জেনারেটরের মাধ্যমে সিরিয়াল দিয়ে ৫০ টাকার বিনিময় মোবাইল চার্জ দিচ্ছে এলাকবাসীসহ ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও আজ বিভিন্ন বাজারে জেনারেটর ভাড়া নিয়ে টাকার বিনিময় মোবাইল চার্জ দিচ্ছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার বিকাল থেকে এলাকায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎবিহিন রয়েছে এমনকি শনিবার থেকে শহর থেকে শুরু করে উপজেলা সকলস্থানে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের কারনে বিদ্যুৎতের খুটি, গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে, ট্রান্সফরমার নস্ট হয়ে বিদ্যুৎবিহিন রয়েছে। কালকিনি উপজেলার বিদ্যুৎতের ৯১ টি খুটি হেলে, ভেঙ্গে যাওয়া ও তিনটি ট্রান্সফরমার নস্ট হওয়াসহ ৪শতাধিক ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিদ্যুৎ নেই তিনদিন। বিদ্যুবিহিন এলাকায় সবকিছু স্থবিরতা বিরাজ করছে। এলাকায় সকল মোবাইল ফোন নেট বন্ধ ছিল একদিন তবে জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল নেট চালু হলেও মোবাইল ফোনে চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে আছে দুর- দুরান্ত, প্রিয়জন, আত্মীয়, বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ। হচ্ছে ব্যবসায়ীক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। তাছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বিভিন্ন ইলেকট্রিক চার্জার লাইট থাকলেও চার্জ দিতে না পারায় জ্বলছে না ঘরের আলো। বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই কালকিনিতে জেনারেটর চালু করে একাধিক ডেকোরেটরের মালিক সিরিয়ালের মাধ্যমে ৫০ টাকার বিনিময়ে শুরু করেছে ভ্রামমান মোবাইল চার্জ। টাকার বিনিময়ে হলেও মোবাইল চার্জ পেয়ে খুশি এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।

বেল্লাল ডেকোরেটরের মালিক বেল্লাল জানান, আজ তিনদিন যাবত এলাকায় বিদ্যুৎ নাই, তাই নিজেই যখন জেনারেটর চালু করে মোবাইল চার্জ দিচ্ছিলাম হঠাৎ কয়েকজন বৃদ্ধ মানুষ কয়েকটি ব্যাগে করে মোবাইল, লাইট, চার্জাার লাইট নিয়ে আসছে, প্রথমে আমি দিতে চাই নাই পরে ‘‘সে টাকা দিতে চাইলো” তাছাড়া জেনারেটর চালু কররে আমারও অনেক খরচ হয়। তাই খরচ যাইহোক সকলকেই ইলেকট্রিক সামগ্রীতে চার্জ দিলাম। আমি প্রতি মোবাইল চার্জ প্রতি ২০টাকা নিচ্ছি।

গোপালপুুর একটি ভ্রামমান দোকানদার মহসিন জানান, আমি দেখলাম টাকা নিলেও মানুষের উপকার হচ্ছে। তাই জেনারেটর ভাড়া করে সকলের চার্জের ব্যবস্থা করছি। আমি চার্জ প্রতি ৫০/৩০/২০ টাকা যার কাছ থেকে যা নেয়া যায়। আর এলাকার মানুষও খুশিঁ।

মোবাইল চার্জ দিতে আসা হেমায়েত হোসেন, সুমনা, হাকিম, নাঈম, হেলাল,জরিনা, রতন জানান, টাকা লাগছে এতে কোন সমস্যা নেই। মোবাইল, লাইট, চার্জার লাইট চার্জ দিতে পেরেছি এতেই আমারা খুশি। তাছাড়া তাদেরও জেনারটর খরচ আছে। তাদের কারনে  আমাদের দুভোর্গে পড়া মানুষের উপকার হচ্ছে।

মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কালকিনি উপজেলা অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুল মাজেদ জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের কারনে কালকিনি উপজেলার বিদ্যুৎতের ৯১ টি খুটি হেলে, ভেঙ্গে যাওয়া ও তিনটি ট্রান্সফরমার নস্ট হওয়াসহ একাধিক এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটির উপর বড় বড় গাছ ভেঙ্গে পড়ায় বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে সময় লাগছে। দুই একদিনেও সকল লাইন চালু করতে পারবো  কিনা তা নিশ্চিত না। তবে শহর এলাকায় গতকাল চালু করা হয়েছে।

Ads
Ads