স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

  • ১০-Nov-২০১৯ ১১:৪৭ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

এ ম্যাচটা আর পাঁচটা ম্যাচের চাইতে বেশি কিছু। কারণ এ ম্যাচটা জেতার কথাই ছিলো টাইগারদের। অন্তত প্রথম ম্যাচ জয়ের পর এমনটাই প্রত্যাশা ছিলো দেশবাসীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশই হতে হলো।

১৭৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ১৪৪ রানেই গুটিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অধিনায়কের মুখে হাসি ফুটিয়ে শুরুতেই ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ানকে চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। প্রথম ওভারে ভারত তুলতে পারে মাত্র ৩ রান।

দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে সেই চাপটা আরও বাড়িয়ে তুলেন শফিউল ইসলাম। প্রথম টি-টোয়েন্টির মতোই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে রোহিত শর্মাকে পরাস্ত করেন ডানহাতি এই পেসার। তার ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি রোহিতের ব্যাটে লেগে উপড়ে যায় লেগ স্ট্যাম্প। ফলে ৬ বলে মাত্র ২ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ভারতীয় অধিনায়ক।

দ্বিতীয় উইকেটে সেই ধাক্কা কিছুটা সামলে ওঠেছিলেন ধাওয়ান আর লোকেশ রাহুল। তাদের ৩২ রানের জুটিটিও ভাঙেন শফিউল। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তাকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ হন ধাওয়ান। ১৬ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান।

ওই ওভারেই আরও একটি উইকেট পেতে পারতেন শফিউল। স্কয়ারে সহজ এক ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শূন্য রানে থাকা আয়ার, কিন্তু আমিনুল ইসলাম বিপ্লব হাতে নিয়েও সেই ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি।

এই আয়ারকে নিয়েই তৃতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়ে তুলেন রাহুল। ৩৩ বলেই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। ৪০ বলে তাদের ৫৯ রানের জুটিটি চোখ রাঙাচ্ছিল।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে আবারও বল হাতে নেন আল আমিন। ওই ওভারের প্রথম বলেই মিডঅফে তুলে মারতে গিয়ে লিটন দাসের ক্যাচ হন রাহুল। ৩৫ বলে ৭ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ৫২ রান।

তবে জীবন পাওয়া আয়ার এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটা তুলে নেন ২৭ বলেই। এর মধ্যে ১৫তম ওভারে আফিফ হোসেনকে প্রথম তিন বলে হাঁকান টানা তিন ছক্কা।

আয়ার-রিশাভ পান্তের জুটি থেকে ৪ ওভারেই আসে ৪৫ রান। তবে এই জুটিতে পান্তের অবদান বলতে গেলে ছিলই না। টুকটুক করে এগিয়ে যাওয়া ভারতের উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান ১৭তম ওভারে এসে বোল্ড হন সৌম্য সরকারের স্লোয়ারে। ৯ বলে করেন মাত্র ৬ রান।

ওই ওভারেই ভয়ংকর আয়ারকেও সাজঘরের পথ দেখান সৌম্য। ৩৩ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ৬২ রান করে লং অফে লিটন দাসের ক্যাচ হন আয়ার। তবে ততক্ষণে বড় সংগ্রহের ভিত গড়া হয়ে গেছে ভারতের।

১৯তম ওভারে দারুণ বোলিং করেন আল আমিন। দেন মাত্র ৬ রান। ওভারের চতুর্থ বলে তো নিজের দ্বিতীয় উইকেটটাও পেতে পারতেন, মিডউইকেটে শুভাম দুবের সহজ ক্যাচ যদি ড্রপ না হতো। এবারও ক্যাচ ফেলে দেন সেই বিপ্লব।

দু’বার অবশ্য জীবন পেয়েও তেমন কিছু করতে পারেননি। ৮ বলে অপরাজিত থাকেন ৯ রানে। সঙ্গী মনিশ পাণ্ডে শেষের কাজটা করে দিয়েছেন। ১৩ বলে তিনি নটআউট থাকেন ২২ রানে।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ‘পার্টটাইমার’ সৌম্য সরকার। ৪ ওভারে ২৯ রান খরচায় তিনি নেন ২ উইকেট। ২টি উইকেট শিকার শফিউলেরও।

এরপর ১৭৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। মাত্র ১২ রানে লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলেন তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাইম শেখ।

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অসাধারণ ব্যাটিং করেন নাইম। ১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২ রানে লিটন-সৌম্যর উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে গর্ত থেকে টেনে তুলেন নাইম।

তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে অনবদ্য জুটি গড়েন। আর এই জুটিতেই ৩৪ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে প্রথম ফিফটি করেন নাইম।

এরপর মিঠুনের পর মাঠে দাঁড়ানোর আগেই মাঠ ছাড়তে হয় মুশফিককে।

কিছুক্ষণ বাদেই মাঠ ছাড়েন তরুণ নাইম। তারপর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। নাইমের পর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি।

Ads
Ads