বাবরি মসজিদের জায়গায় মন্দিরের জয়, নতুন মসজিদ নির্মাণে আলাদা জমি বরাদ্দ

  • ৯-Nov-২০১৯ ১২:৩০ অপরাহ্ন
Ads

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

ভারতের বহুল আলোচিত উত্তরপ্রদেশের বাবরি মসজিদ ভূমি মালিকানার রায় ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

প্রধান বিচারপতি ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির।

রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, অযোদ্ধার বিতর্কিত রাম মন্দির-বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মিত হবে; বিকল্প হিসেবে মুসলমানদের জন্য নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে আলাদা জমি বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

রায় পড়ার সময় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে জমির মালিকানা ঠিক করা সম্ভব নয়। কাঠামো থেকে কোনো কিছুর মালিকানা দাবি করা যায় না। কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার হরণ না হয়।

তিনি বলেন, ভারতের প্রত্মতাত্ত্বিক সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যে সব জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট, সেগুলো ইসলামিক নয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সময় ধরে কয়েক দশকের পুরোনো এই মামলায় রায় পড়ে শোনান বিচারপতি গগৈ। এ সময় তিনি বলেন, যে রায় ঘোষণা করা হলো; তা বিচারক বেঞ্চের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।

এর আগে এক শতকের পুরনো অযোধ্যা বাবরি মসজিদের রায় পড়তে শুরু করেন বিচারকরা।

এক দশক আগে আল্লাহাবাদ হাইকোর্টে হিন্দু ও মুসলমান মকদ্দমাকারীদের মাঝে জায়গাটি আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেয়ার রায় দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই বিচারের বিরুদ্ধে দুই পক্ষই উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

আল্লাহবাদ হাইকোর্টের ওই রায়ে যৌক্তির অভাব ছিল বলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা দাবি করেন। শীর্ষ কোর্ট বলেন, পুরো জমিটিকে সামগ্রিক ভূখণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করতে হবে।

মুসলমানরা জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রমাণে সক্ষম হয়নি বলে শীর্ষ আদালত দাবি করেন।

বিরোধপূর্ণ ধর্মীয় স্থানটির রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সহায়তা করতে ১৬ হাজার ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবকও রয়েছেন, সামাজিকমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট মোকাবেলায় তারা কাজ করবেন।

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ১৬ শতকের বাবরি মসজিদটি নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানরা কয়েক দশক ধরে তিক্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন।  হিন্দুদের বিশ্বাস, তাদের দেবতা রাম ওখানে জন্ম নিয়েছে।

১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা মসজিদটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ১৭ নভেম্বর অবসরের আগেই জায়গাটির মালিকানার দাবি নিয়ে মামলার রায় দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

অযোধ্যা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশিস তিওয়ারি বলেন, বিভিন্ন সংস্থার কয়েক হাজার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত যান, সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।

উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বিজেপির নেতা ও মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

Ads
Ads