বিএনপি ছাড়লেন মোরশেদ খান, পদত্যাগ করতে পারেন আরও যেসব সিনিয়র নেতারা!

  • ৬-Nov-২০১৯ ০২:৩২ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

*ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মে’জর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বী’রবিক্রম, ব্যারি’স্টার শাহজাহান ওমর বীর’উত্তম ও এয়া’রভাইস মা’র্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী যে কোনও সময় বিএনপি থেকে পদত্যা’গের ঘো’ষণা দিতে পারেন। বিএনপি ছাড়ার ঘোষ’ণা আসতে পারে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছ থেকেও।*

*বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ ‘অলঙ্কৃত’ ভাইস চেয়ারম্যানের প’দ থেকে পদ’ত্যাগ করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এম মোরশেদ খান। পদত্যা’গের কারণ হিসেবে তিনি ‘নেহাত ব্যক্তিগত’ উল্লেখ করলেও তার ঘনিষ্টজনরা বলছেন দীর্ঘদিনের জমানো রা’গ, ক্ষো’ভ ও অভি’মান থেকেই বিএনপি ছাড়ার ঘো’ষণা দিলেন দলটির সিনিয়র এই নেতা।*

*মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) মোরশেদ খানের ব্যক্তিগত সহকারী আতাউর রহমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে মোরশেদ খানের পদ’ত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।*

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘‘তিনি (মোরশেদ খান) গত ৩০ ডিসেম্বরের পরপরই বিএনপি থেকে পদ’ত্যাগ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু ওনার শুভাকাঙ্খীরা বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে ওইসময় পদ’ত্যাগ থেকে বিরত রাখেন।’’

তিনি আরও বলেন, মোরশেদ খান সোমবার (৪ নভেম্বর) লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আমি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাই। তখন বিভিন্ন কথায় তিনি (মোরশেদ খান) বলেন, আগে লন্ডন গেলে শুনতাম ও দেখতাম ওখানকার বাংলাদেশী কমি’উনিটির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য লোকজন বিএনপি বিএনপি বলতে পাগল থাকতেন। কিন্তু অবস্থা বদলে গেছে। এখন তারেক রহমানের ছত্রচ্ছায়ায় যারা ওখানে বিএনপি করে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আগের সেসব লোকদের ধারে-কাছেও নেই।

জানা যায়, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান বিএনপি মহাসচিব বরাবর দল থেকে তার পদ’ত্যাগের কারণ হিসেবে ‘নেহাত ব্যক্তিগত’ উল্লেখ করলেও তা শুধু ব্যক্তিগত কারণ নয়। বরং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে অব’জ্ঞা, গত জাতীয় নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন না দেয়া এবং চট্টগ্রাম ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কো’ণঠাসা করে রাখার কারণেই দল ছাড়তে বা’ধ্য হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানান।

পদত্যা’গের ব্যাপারে মোরশেদ খান বলেন, ‘অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে তার উপলব্ধি হয়েছে, সক্রিয় রাজনীতি থেকে অ’বসর নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।’

মোরশেদ খানের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, অবমূ’ল্যায়নের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কর্ম’কাণ্ডও মোরশেদ খানকে প্রচ’ণ্ড হতা’শ করেছে। তিনি তার কাছের মানুষদের বলেছেন, তারেক রহামন তার মায়ের মুক্তির বিষয়েও জোরালো কোনও আন্দো’লন গড়ে তুলবেন না। দলীয় প্রধানের কারা’মুক্তিও তাই সুদূর’পরাহত বিষয়। আর খালেদা জিয়াবিহীন বিএনপির রাজনীতি করে করার কোনও ইচ্ছা তার নেই। মূলত বিভিন্ন ক্ষো’ভ থেকেই তিনি পদ’ত্যাগ করতে বা’ধ্য হয়েছেন।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াবিহীন দল পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একক কর্তৃ’ত্ব নিয়ে তার প্রতি দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যে আস্থাহী’নতা ও ক্ষো’ভ সৃ’ষ্টি হয়েছে, মোরশেদ খানের পদত্যা’গের মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ্যে এলো। এতদিন সিনিয়র নেতাদের নানা ক্ষো’ভের কথা শোনা গেলেও এই প্রথম কেউ পদত্যা’গ করলেন।

সূত্র জানায়, মোরশেদ খানের দেখানো পথ ধরে আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা শিগগিরিই বিএনপি ছাড়ার ঘোষ’ণা দিতে পারেন। শোনা যাচ্ছে প্রবীণ রাজনীতিক এরশাদ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মে’জর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর’বিক্রম, ব্যা’রিস্টার শাহজাহান ওমর বীর’উত্তম ও এয়া’রভাইস মা’র্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী যে কোনও সময় বিএনপি থেকে পদ’ত্যাগের ঘো’ষণা দিতে পারেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছ থেকেও বিএনপি ছা’ড়ার ঘোষ’ণা আসতে পারে যে কোনও সময়ে। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে কোণ’ঠাসা অবস্থায় থেকে নিজের হতা’শার কথা প্রকাশ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বরাবর পদত্যা’গপত্রে মোরশেদ খান লিখেছেন, মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় কঠিন একটা সি’দ্ধান্ত নিতে হয়, যার প্র’ভাব সুদূর’প্রসারী। আমার বিবেচনায় সে ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তাই অনেকটা দুঃ’খ ও বেদ’নাক্লান্ত হৃদয়ে পদত্যা’গের এ চিঠি।

মোরশেদ খান বলেন, রাজনীতির অঙ্গনে আমার পদচারণা দীর্ঘকালের। কিন্তু দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজন করার মতো সঙ্গতি নেই। তাই ব্যক্তিগত কারণ হেতু আমার উপলব্ধি-সক্রিয় রাজনীতি থেকে অ’বসর নেয়ার এখনই সময়। বহুবিধ বিচার-বিশ্লে’ষণ শেষে আমি অবিলম্বে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) থেকে বিএনপির রাজনীতি থেকে অবস’র নেয়ার সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছি। এ অবস্থায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যা’হারসহ বর্তমানে ‘অলঙ্কৃত’ ভাইস চেয়ারম্যানের প’দ থেকে পদ’ত্যাগ করছি।

পদ’ত্যাগপত্রে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘‘বিএনপির সঙ্গে আমার সম্পর্কের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অসংখ্য নেতাকর্মীর সান্নিধ্য পেয়েছি এবং উপভোগ করেছি। তাদের মধ্যে অনেকেই প্র’য়াত এবং অনেকেই বর্তমানে দলের হাল ধরে আছেন। প্র’য়াতদের বি’দেহী আ’ত্মার শান্তি যেমন কামনা করি, তেমনি আপনিসহ বর্তমান সব কর্মী-কা’ন্ডারীদেরও আমি মঙ্গলাকাঙ্খী। অতীত ও বর্তমান সব কর্মীর নিরবচ্ছিন্ন সান্নিধ্য, সখ্য, সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সাহায্য-সহযোগিতার কথা আমার স্মৃ’তিতে অম্লা’ন হয়ে থাকবে। দলের প্রতিনিধি হয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন এবং দলের কর্মী হিসেবে দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়ে বিএনপি আমাকে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছে।’’

মোরশেদ খান ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এর পর চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সাল, এর পর জুন ’৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ দূত ছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পে’শাল কমি’টি অ’ন ফরে’ন অ্যাফে’য়ার্সের চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকারের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

Ads
Ads