অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাড়ছে না গ্যাসের দাম

  • ৮-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা স্থগিত করেছে। তবে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো মার্জিন বাড়ানোর বা সমন্বয়ের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে এই সপ্তাহে। পাশাপাশি কিছু নতুন নিদের্শনাও দিতে পারে কমিশন। বিইআরসির সচিব মো. রেজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সোমবার (০৮ অক্টোবর) বিকেলে বিইআরসির সচিব মো. রেজানুর রহমান তার কার্যালয়ে বসে বলেন, ‘আমরা আদেশের বিষয় আপাতত প্রকাশ করতে চাই না।’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গটি টেনে তিনি বলেন, ‘ইলেকশান নকিং অ্যাট দ্য ডোর। এখন এ কাজটি করা উচিত হবে কিনা, তা নিয়ে সবাই চিন্তা করছে।’

দাম বাড়বে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির সচিব বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী একটি আদেশ দেবে কমিশন। ওই আদেশে বিতরণ কোম্পানির মার্জিন বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’ এই‌ সপ্তাহের মধ্যেই সেই আদেশ আসবে বলে জানান তিনি।

কমিশনের আরেকটি সূত্র জানায়, এর আগে ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগেও একদফা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করে কমিশন।তখন বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের ঠিক আগে আবারও কমিশনের একই কাজে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এখনই যেন গ্যাসের দাম না বাড়ানো হয়। ফলে আপাতত গ্যাসের দাম বাড়ছে না।’

প্রসঙ্গত, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ছাড়া সব ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বিতরণ কোম্পানিগুলো। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এনএলজি) খরচ মেটাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। জুনে তাদের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়।শুনানির পর ৯০ দিনের মধ্যে আদেশ দেওয়ার কথা কমিশনে। এই সপ্তাহেই এই ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা।

এদিকে, গত ১৮ আগস্ট থেকে এলএনজির সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিইআরসির নানা সূত্র থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছিল।

সর্বশেষ রবিবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শেষপর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছে কমিশন।

সূত্রগুলো জানায়, গত রবিবার সকালে কমিশন বৈঠক করে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সভাকক্ষ প্রস্তুতসহ করা ফাইল তৈরি করা হয়। এ সময় কমিশন সচিব ছুটিতে থাকায় তাকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম।

ফিরে এসেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেন তিনি। এ সময় কমিশনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজি হননি। তিনি গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়বে, সেসব বিষয় বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেন।

কমিশন সূত্র বলছে, যে পরিমাণ এলএনজি এই বছর যুক্ত হচ্ছে, তাতে সব মিলিয়ে সারা বছরে দুই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার কথা। ফলে পুরো বছরের অর্ধেক সময় ধরে হিসাব করলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে সরকার এখাতের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। ফলে এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলাকে খুব বেশি ব্যয় করতে হবে না। এ কারণেই গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে আপাতত ভর্তুকি দিয়ে ব্যয় মেটানোর চিন্তা করছে সরকার।  

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মতো পাইপলাইনে  এনএলজি সরবরাহ শুরু হয়। প্রথমে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হলেও এখন প্রতিদিন কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রিড থেকে সমপরিমাণ গ্যাস চট্টগ্রামের বদলে অন্য জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

/ই

Ads
Ads