৫ বছরে শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক ডিএনসিসির কাউন্সিলর আফসার

  • ২৩-Oct-২০১৯ ০২:৫৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিভিন্ন অপকর্মের হোতা উত্তরা এলাকার কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এরপর থেকে তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। পাঁচ বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। উত্তরা একাধিক মার্কেট, বাড়ি, ফিলিং স্টেশন, চানিজ রেস্টুরেন্ট, ক্যাসিনো ব্যবসা, কী নেই। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভি’যোগ পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নজরদারিতে রেখেছে।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, গত পাঁচ বছরে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন কাউন্সিলর আফসার। অর্ধশত ক্যাডার বাহিনীর বহর নিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। দখল-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। রাজউকের ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্ল’টে মার্কেট বানানো, দখলবাজি, ফুটপাত ও পরিবহন চাঁদাবাজিসহ জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে সরকারদলীয় এ নেতার বিরুদ্ধে।

সূত্র আরও জানায়, বৃহত্তর উত্তরার দখল, চাঁদা’বাজিসহ বিভিন্ন ক্লাবে পরিচালিত জুয়া ও ক্যাসিনো কারবারে নিয়মিত ভাগ পেতেন। উত্তরার তিনটি ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে আফসার উদ্দিনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উত্তরা ৯ নং সেক্টরের ভিবা চাইনিজ রেস্টুরেন্টের উপরের তলার ক্যা’সিনো, হাউ’জ বিল্ডিং গাজীপুর ক্লাব ক্যাসিনো ও ১ নং সেক্টরের পূবালী ব্যাংক ভবনের উপরে পরিচালিত ক্যাসিনোর পরিচালনাকারী প্রায় সকলেই তার অনুসারী।

সূত্রমতে, উত্তরা আজমপুরে বিডিআর বাজারে কাঁচাবাজার বসিয়ে প্রতি মাসে অর্ধ কোটি টাকা ভাড়া আদায় করেন আফসার উদ্দিন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাহাবুদ্দিন বাজারটি দেখভাল করেন। আজমপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ২০ কাঠার প্লট দখল করে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রির মার্কেট নির্মাণ করেছেন এ কাউন্সিলর। এটি পরিচালনা করেন শ্রমিক নেতা মাজেদ। আব্দুল্লাহপুরে পানি উন্নয়নের বোর্ডে বিভিন্ন জায়গায় ৬টি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। পরিচালনায় আছেন শ্যালক ও যুবলীগের কয়েকজনসহ স্থানীয় জামাই ফারুক। স্থানীয় সোনারগাঁও জনপথ রোডে রাজউকের ২০ বিঘা জমি দখ’ল করে বানানো হয়েছে ফার্নিচার বাজার। পরিচালনা করেন জজ মিয়া ও যুবলীগের সোহেল। ৯ নং সেক্টরে লেকের পাড়ে ফার্নিচার মার্কেট পরিচালনা করে স্থানীয় ছাত্রলীগ।

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের সামনে ঝুট কাপড়ের ব্যবসার মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করেন আফসার উদ্দিনের অনুসারী রাসেল। উত্তরা আব্দল্লাহপুরের পরিবহন চাঁদাবাজি, যা রাজধানীর বড় পরিবহন চাঁ’দাবাজির স্পট। এটি নিয়ন্ত্রণ করেন শ্রমিক নেতা নূরু। এসব খাত থেকে আফসারের হাতে আসে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকা।

কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তরায় ১০ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন ১৩ তলা খান টাওয়ার। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। ৯ নং সেক্টর ১০ নং রোডে রয়েছে- ৫ কাঠার ও আবদুল্লাহপুরে দুটি ৬ তলাসহ ৩টি প্লট। এসবের বাজার মূল্য ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া পরিবারের বিভিন্ন জনের নামে উত্তরায় আরো ১৫টি প্ল’ট রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া আশুলিয়ায় রয়েছে আফসারের ৫০ বিঘা জমি। আশুলিয়া ও রপ্তানি রোডে একটি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। আব্দুল্লাহপুরে খন্দকার সিএনজি স্টেশনটিও ১০ কোটি টাকায় কিনেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। টঙ্গীর চেরাগ আলীতে এক বিঘা জমির উপর একটি নির্মাণাধীন মার্কেট রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় দুটি ফ্ল্যাট ও পরিবারের সবার সেকেন্ড হোম গড়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান বলেন, এসব তথ্যের সত্যতা নেই। রাজনীতি করি, প্রতিপক্ষ আছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। আপনি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখতে পারেন।

গত শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, উত্তর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীবকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধারের পাশাপাশি রাজিবের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তারেকুজ্জামান রাজীব ২০১৪ সালে কাউন্সিলর হওয়ার পরই মোহাম্মদপুর এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। একই ধরনের অপরাধে এর আগে গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান। সিঙ্গাপুরে পালিয়ে আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ড (বহিষ্কৃত) কাউন্সিলর ক্যাসিনো সাঈদ। আর গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন আরো কয়েকজন কাউন্সিলর। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খানও রয়েছেন এ তালিকায়। সূত্র: বাংলাদেশ প্রেস

Ads
Ads