ক্রিকেটকে পুঁজি করে সেইফ ফিল্ডে থেকে স্বৈরতন্ত্র চালানো যাবেনা!

  • ২৩-Oct-২০১৯ ০২:৩৭ অপরাহ্ন
Ads

::  জয়নাল আবেদিন ::

গতকালকে নাইমুর রহমান দুর্জয়ের ইন্টারভিউ এবং আজকে পাপন স্যারের ব্রিফিং দেখে সাকিবদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে আর কোনো সন্দেহের জায়গা থাকল না।

দেশের ক্রিকেট বা ক্রিকেট বোর্ড কারো বাবার সম্পত্তি না। খেলবে ক্রিকেটার, খাটবে ক্রিকেটার-কোচ-আম্পায়ার-গ্রাউন্ডসম্যান আর তাদের থেকে প্রাপ্য আয় নিয়ে রাজতন্ত্র চালাবেন এসব পলিটিক্যাল লর্ড এসব মেনে নেয়া যায় না। ক্যাসিনোগিরি করার ইচ্ছে থাকলে নিজের বাপের টাকায় করেন নইলে মূলধারার রাজপথের রাজনীতিতে নামেন। ক্রিকেটকে পুঁজি করে সেইফ ফিল্ডে থেকে স্বৈরতন্ত্র চালাতে পারেন না।

পাপন স্যারের হুংকার দেখে মনে হলো সমস্যা সমাধানের মাত্র দুইটা পথ খোলা আছে। টিপিক্যাল দমন পীড়নের মাধ্যমে কয়েকজনকে শাস্তি ও দু একটা দাবী মেনে নিয়ে ঝামেলা সমাধান নইলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে একটা বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া লর্ডরা না নড়লে সেটা হবে নোংরা ব্যাপার। তাও দমন পীড়নের চেয়ে এটাই বেশি প্রেফারেবল হবে। ক্রিকেটারদের দাবী আদায় না হলে ক্রিকেট বরং বন্ধই থাকুক।

সাকিব ইন্টারন্যাশনাল স্টার এবং সরকারি দলের লোক হিসেবে পরিচয় সুস্পষ্ট। পুরো ব্যাপারটা যে তার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ঘটেছে সেটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই। বিপরীতে পাপন স্যার এবং জনাব দুর্জয় এমপি মানুষ। একটা ফরম্যাটের অধিনায়ক হবার পরেও মাশরাফি বিন মোর্ত্তোজাকে প্রায় বয়কট করেছে ক্রিকেটাররা, তিনি নিজেও রাখঢাক না রেখে এই বয়কটের ঘটনা প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন।

এখন সাকিব বনাম বোর্ড তথা দুই এমপি এবং মাশরাফির বাফার জোনে থাকার যে ত্রিমাত্রিক চরমাবস্থা সেটার ফলাফল কোন দিকে যায় সেটা একেবারেই অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।

একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে এই চরম সময়ে নিজের নৈতিক সমর্থনের পুরোটাই সাকিব বাহিনীকে দিলাম। মাফিয়াবাজি-রাজতন্ত্র যদি বন্ধ না হয়, বন্ধ হয়ে যাক ক্রিকেট।

হাঁটুতে বুদ্ধি রাখা প্রজাতির জন্য দুইটা পয়েন্ট।

এক: ক্রিকেটারদের আয় সরকার বা জনগণ থেকে আসে না। বিসিবি আর্থিকভাবে একটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাদের আয় ও ব্যয়ের বাজেট আছে। ক্রিকেটাররা কত বেশি বেতন পায় সেটা বিষয় না। বিষয় হচ্ছে তাদের মাধ্যমে বিসিবি যে আয় করছে সেটা যাচ্ছে কই? ক্রিকেটাররা ১২ মাস এই লাইনে থাকে। আয় ব্যয়ের হিসাব জানা আছে বলেই তারা বুঝতে পারছে বোর্ড তাদের ঠকাচ্ছে। “এদের এত টাকা আর চায় ক্যান” এটা যদি আপনার যুক্তি হয় তবে আপনি পরোক্ষভাবে যারা না খেলেই সব হাতিয়ে নিচ্ছেন তাদের পক্ষে। ক্রিকেটার নাকি লর্ডদের পক্ষে আপনি সেটা পরিষ্কার হয়ে নিন আগে।

দুই: সাকিব একজন ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটাররা যদি কোনো আন্দোলনে নামে সেটা ক্রিকেট নিয়েই হবে। দেশের ফুটবলের দুরাবস্থা, ডাক্তারদের মার খাওয়া, আস্তিক-নাস্তিক-জঙ্গী কিংবা অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে সাকিবদের ধর্মঘটে যাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব এই ঘিলু না থাকলে ফেসবুক চালানো উচিত না। দেশের সব ক্রিকেটার মিলে এমন একটা শক্ত খুঁটি ধরে টান দিয়েছেন এটা একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আপনার দল-মত বা পেশাগত সেক্টরে কোনো সমস্যা থাকলে সাকিবদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণে নিয়ে আন্দোলন-ধর্মঘটে নামুন। সূত্র: এগিয়ে চলো

Ads
Ads