‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ নিহত ৪

  • ১৮-Oct-২০১৯ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

তিন জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ও শুক্রবার ভোররাতে ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ও জয়পুরহাটে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিজিবির গুলিতে দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান এ তথ্য জানান।

নিহতরা হলেন- উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা সুলতান আহম্মেদের ছেলে আবুল হাসিম (২৪) ও একই ক্যাম্পের আবু সিদ্দিকের ছেলেনুর কামাল (২০)।

বিজিবি কর্মকর্তা ফয়সল বলেন, নাফ নদীর লম্বাবিল পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার খবরে তাদের একটি দল রাতে সেখানে অবস্থান নেয়।

এক পর্যায়ে মিয়ানমারের দিক থেকে একটি নৌকায় ৪/৫ জন লোক আসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দেন।

নৌকাটি নদীর কিনারে এলে দুইজন লোক লাফ দিয়ে দৌঁড় দেয়। এসময় বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে পালানোর চেষ্টায় থাকা মাদক চোরাকারবারিরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে নৌকায় থাকা তাদের সহযোগীরাও বিজিবির দিকে গুলি শুরু করে।

বিজিবি সদস্যরাও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। নৌকায় থাকা লোকজন এসময় পালিয়ে যায়। গোলাগুলি থামার পর ঘটনাস্থলে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা ফয়সল।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতি মামলার আসামি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গফরগাঁও-রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল মোতালেব (৪২)। তিনি গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুরের ছয়ানী গ্রামের কেতু শেখ ওরফে আব্দুল গফুরের ছেলে।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাতে গফরগাঁও-রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে ডাকাতদল- গোপনসূত্রে এমন খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের দুটি দল অভিযান চালায় সেখানে।

ডাকাতদল পুলিশের উপস্তিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। সহযোগী ডাকাতদল পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোতালেব নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

আহত মোতালেবকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মোতালেবের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভুতগাড়ী গ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট (৩৫) নামে এক শীর্ষ অপহরণকারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে ।

নিহত আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পিয়ারা গ্রামের মৃত শাহাবুল ইসলামের ছেলে।

পাঁচবিবি থানা পুলিশেরর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক কারবার, ছিনতাইসহ প্রায় এক ডজন মামলার পলাতক আসামি ছিলেন নিহত আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট। শুক্রবার রাতে একই উপজেলার ভুতগাড়ী গ্রামে ক্যাসেটসহ তার দলবল নতুন করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে একত্রিত হচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ক্যাসেট গুলিবিব্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। 

 

/কে 

Ads
Ads