মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে

  • ১৭-Oct-২০১৯ ০৮:২০ অপরাহ্ন
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০১৯’ গত ৯ অক্টোবর থেকে শুরু করে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। সরকারের এক নির্দেশক্রমে এই ২২ দিনে কেউ যদি নদীতে জাল ফেলে ইলিশ মাছ ধরে তাহলে তা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হবে।

বৃহস্পতিবার নৌ পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে থেকে জানা গেছে, এ সময় একটি মা ইলিশ ২০ থেকে ২২ লাখ ডিম ছারে; এবং যদি অর্ধেক ডিমও পরিপূর্ণ মাছ হয় তাহলে আমরা ১০ থেকে ২২ লক্ষ ইলিশ মাছ পাওয়া যাবে। তাই মা ইলিশ সংরক্ষণে নৌ পুলিশ বদ্ধ পরিকর ও প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর অভিযান পরিচালনা করে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চটি ছেড়ে যায় এবং বক্তাবলীতে নোঙ্গর করে। সেখানে প্রায় ১০০ জন নৌ পুলিশ সদস্য নিয়ে ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম সমাবেশ করে। সমাবেশে ডিএইজি বলেন, মা ইলিশ যদি ধরা বন্ধ রাখা যায় তাহলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও ইলিশ সম্ভাবনাময় দেশে পরিনত হবে।

এদিকে, সমাবেশ শেষে তিনি মুন্সিগঞ্জের চরআব্দুল্লাহপুর এবং চাঁদপুরের মোহনপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে বিপুল পরিমান প্রায় ৩০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ২৪০ কেজি মাছ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত জাল সমূহ প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ফেলা হয়। উদ্ধারকৃত মাছ চাঁদপুরের ৪টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এসময় অভিযানে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসী উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গত ১৫ অক্টোবর নৌ পুলিশের ডিআইজিসহ অন্যান্য ৮০ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করে। ঐদিন মাওয়া থেকে সকালে নৌ পুলিশের লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা ভোজগাঁও এবং কলিকাল এলাকায় নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেরা নৌ পুলিশের সদস্যদের উপর অতর্কিত ভাবে আক্রমন করে কিছু দুবৃদ্ধরা। নৌ পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৪২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১ রাউন্ড শিশা লেডবলসহ মোট ৪৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ বিষয়ে পেনাল কোডের ৩৩২/৩৩৩/৩৪ ধারা মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ৫ (২) (খ) ধারায় লৌহজং থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-১২।

উল্লেখ্য, অভিযানে ৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩ টি নৌকা উদ্ধার করে। ৪০০ কেজি ইলিশ মাছ, ১৪ জন জেলে এবং ২ টি ট্রলার উদ্ধার করে। কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে দেয় হয় এবং মাছ সমূহ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।এরপর লঞ্চটি মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের উদ্দেশ্যে লৌহজং ছেড়ে নড়িয়া থানার সুরেশ্বরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

Ads
Ads