দুবাইয়ে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান জামিনে মুক্ত

  • ১৩-Oct-২০১৯ ০৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দুবাইয়ে আটক বাংলাদেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম জিসান আহমেদ মন্টি গত বৃহস্পতিবার বিকালে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

দুবাইয়ের রাজ পরিবারের বিশিষ্ট এক ব্যবসায়ীর জিম্মায় সেখানকার আদালত তাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। জামিনে থাকা অবস্থায় জিসান দুবাই ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না বলেও আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে তার জামিনে মুক্ত হওয়ার ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কোনো কর্মকর্তাই মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২ অক্টোবর জিসান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় দুবাই ইন্টারপোল তাকে আটক করে। আগে থেকেই তার নামে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা ছিল। এ সময় তার কাছ থেকে ভারতের একটি পাসপোর্ট, মোবাইল সেটসহ বেশ কিছু ডলার উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি দুবাই ইন্টারপোল শাখা বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা এনসিবিকে জানায়।

এ ব্যাপারে গত ৩ অক্টোবর এনসিবি’র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম বলেছিলেন, জিসানের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তর খোঁজ খবর নিচ্ছিল। সর্বশেষ জিসান আলী আকবর চৌধুরী নাম নিয়ে ভারতের পাসপোর্ট নিয়েছিল- সে বিষয়েও আমাদের কাছে তথ্য ছিল। আমরা জিসানের পুরাতন মামলার তথ্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়েছিলাম। দুবাই ইন্টারপোল তাকে আটক করে তার ছবি প্রথমে আমাদের কাছে দেয়। এরপর সেসব ছবি যাচাই বাছাই করে আমরা নিশ্চিত হই যে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্টধারী ব্যক্তিই জিসান। তার কাছে ডোমেনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্টও পাওয়া গেছে। তার ব্যাপারে সব নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে। তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দুবাই ইন্টারপোল পুলিশ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুবাইয়ের একটি আদালতে জিসানকে হাজির করে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ। সেখানে তার পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে সে দেশের রাজ পরিবারের এক ব্যবসায়ীর জিম্মায় জামিন দেয় আদালত।

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখার এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়টি নিয়ে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার এক সময়ের ত্রাস ছিলেন জিসান। ২০০১ সালের নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় জিসানের নাম ছিল ২০ নম্বরে । ২০০৩ সালের ১৫ মে রাতে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে ডিবির ইন্সপেক্টর নুরুল আলম শিকদার এবং এসআই আলমগীর হোসেনকে হত্যা করে জিসান আলোচনা আসে। ২০০৫ সালে জিসান ভারতে আত্মগোপন করে। সেখানে ২০০৯ সালে একবার কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। পরে ছাড়া পেয়ে কলকাতায় বসে ঢাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত। বছর দুয়েক আগে জিসান ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে দুবাই চলে যায়। সেখানে ঢাকা থেকে যাওয়া অনেক সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার বৈঠক হতো। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে সম্রাট-খালেদ-জিসানের বৈঠক হয়। সেখানে ক্যাসিনো থেকে জিসান ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।

Ads
Ads