যে ভয়ে কার্যালয়েই গেলেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান, নেতাকর্মীরা কার্যালয় থেকে চেয়ার সরিয়ে ফেলেছে

  • ১১-Oct-২০১৯ ০৫:১৮ অপরাহ্ন
Ads

::সিনিয়র প্রতিবেদক::
নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পুষে রাখা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে বলে আশংকা করেছিলেন আগের দিনই। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদও গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দৈনিক ভোরের পাতায় প্রকাশিত হওয়ার পর শনিবার অনেকটা ভয়েই নির্ধারিত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে উপস্থিত হননি সংগঠনের প্রবল প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। এদিকে, নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যেই যুবলীগের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর জন্য যে চেয়ারটি ছিল তা সরিয়ে ফেলেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এমনকি প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে শনিবার সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। 

এদিকে, দেশে চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের প্রথম দিকে বেশ সরব ছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। পরে যুবলীগের উপর সারির বেশ কয়েকজন এ অভিযানে গ্রেফতার হলে ওমর ফারুক চৌধুরী একে দেখেছিলেন সংগঠনের ঢাকা মহানগরের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগ তোলার পেছনে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে।

পরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতারের পর ওমর ফারুক চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তার ব্যাংক হিসাবও তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর নামে থাকা সব হিসাবের লেনদেন তথ্য, বিবরণীসহ সব পাঠাতে বলা হয়। এমনকি তিনি যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারেন সেজন্য সীমান্তে সর্তকতা জারি করা হয়।

যদিও ওমর ফারুক ইতোমধ্যে মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেছেন ‘এমন কোনো সংবাদ আমাকে জানানো হয়নি। আর আমি পালাতে যাব কেন? পালাবার তো কোনো কারণ নেই। আমি কোনো অপরাধ করিনি যে, আমাকে পালিয়ে যেতে হবে। ’

রাজনীতি করতে গেলে ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাবার লোক নই। আমি রাজনীতি করি। রাজনীতি করতে গেলে একটু আধটু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে।

তবে ইতোমধ্যে রাজনীতি থেকে নিজেকে এক প্রকার গুটিয়ে নিয়েছেন যুবলীগ চেয়াম্যান। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর উত্তরায় সংগঠনের একটি ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল তাকে। এরপর থেকে ২০ দিন ধরে তাঁর দেখা পাচ্ছেন না নেতা-কর্মীরা।

গত বুধবার যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ (২৩ নভেম্বর) চূড়ান্ত হওয়ার পর নেতা-কর্মীদের অনেকে ধারণা করেছিলেন, তিনি সংগঠনের কার্যালয়ে আসবেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী অপেক্ষা করেও তাঁর দেখা পাননি। ফোনেও তাঁকে পাচ্ছেন না তাঁরা।

নভেম্বরে যুবলীগের সম্মেলন হবে—এক সপ্তাহ আগে এই খবর প্রচার হওয়ার পর থেকেই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিদিন নেতা-কর্মীরা ভিড় করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের বেশকয়েকজন এই প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাংক হিসাব তলব ও অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আসার পর ওমর ফারুক চৌধুরী প্রকাশ্যে আসছেন না।

পূর্বপশ্চিমের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ওমর ফারুক চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি। ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কে তাঁর প্রতিষ্ঠিত যুব গবেষণা কেন্দ্রের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ধানমন্ডির ৮/এ সড়কে তাঁর বাসায় গেলে নিরাপত্তারক্ষী জানান, তিনি বাসায় আছেন।

এদিকে আজ শুক্রবার দলীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ছাড়াই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বহিষ্কার করা হয়েছে যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে।


 

Ads
Ads