'দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে, এটা কখনও হতে পারে না'

  • ৯-Oct-২০১৯ ০৪:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

গ্যাস চলে যাচ্ছে বলে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারাই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় গিয়েছিলো বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের সঙ্গে গ্যাস নিয়ে চুক্তি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনও হতে পারে না।

বুধবার (৯ অক্টোবর) গণভবনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের সঙ্গে গ্যাস রপ্তানির চুক্তির বিরোধিতা করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আজ এলপি গ্যাস বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা ২০০১ সালে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির জন্য আমেরিকার কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাদের এখন এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার নেই।’

সেই সময় আমেরিকাকে গ্যাস রপ্তানির আশ্বাস না দেয়ায় ক্ষমতায় ফিরতে পারেননি বলে জানান শেখ হাসিনা।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জানি প্রশ্নটা আসবে। ভারতে যে গ্যাস যাবে সেটা এলপিজি, এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। আমাদের দেশে উৎপাদন হয় না। রিফাইনের পর তা ব্যবহারযোগ্য হয়। এছাড়া আমাদের দেশে গ্যাস উত্তোলনের সময় কিছু তেল আমরা পাই, যা থেকে পেট্রোল হয়, কিছু এলপিজি হয়।’

‘দেশে এখন পাইপলাইনে গ্যাসের অভাব। এজন্য রান্নার কাজে আমদানি করে সিলিন্ডারে ভরে সরবরাহ করছি। আপনারা জানেন, আগে খুব অল্প পরিমাণে এলপিজি ছিল। দুটি বেসরকারি এবং একটি সরকারি কোম্পানি আমদানি করত। এখন এটা বিভিন্ন কোম্পানি করছে। আমরা এটাতে উৎসাহিত করছি। এক সময় ১৬০০ টাকার সিলিন্ডার এখন ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশে এখন এলপিজির বেসরকারি অনুমোদিত ২৬টি, আগের আছে কয়েকটি কোম্পানি।  আর ১৮টি কোম্পানি উৎপাদন করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্রিপুরায় যা দিচ্ছি এটা আমদানি করা গ্যাস। দেশে সরবরাহ করে কিছু ত্রিপুরা দিচ্ছি। যারা বলছেন গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে, যারা এটা নিয়ে সোচ্চার, বিশেষ করে বিএনপি, তাদেরকে ২০০১ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তখন আমেরিকা আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস চায়। আমি বলেছিলাম দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে থাকলে দেব। এই কারণে তখন ক্ষমতায় ফিরতে পারিনি।’

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আজ যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলছে তারা কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।’

২০০১ সালে সেই সময়ের তত্ত্বাবধায় সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসায় একটি দাওয়াতের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই বৈঠকে আমি, জিল্লুর রহমান, খালেদা জিয়া ও মান্নান ভূঁইয়া আমরা চারজন ছিলাম। সেখানে মার্কিন দূত গ্যাস রপ্তানির প্রস্তাব দেন। আমি বললাম, আমরা দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ না করে এটা দিতে পারি না। আমি চলে এসেছিলাম। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এসে আমাকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি রাজি হইনি। এতে আর ক্ষমতায় ফিরতে পারিনি।’

ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি ভারতকে দেয়া হবে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিপুরা সরকারের সহায়তা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে কিছু দায়িত্ব থাকে, ফেনী নদীর পানি পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে।  

এর আগে, সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (বুধবার) বিকেলে গণভবনে বেলা সাড়ে তিনটায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে। 

এখন সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Ads
Ads