সান্তাহারে রেলওয়ে উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় পুনরায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা 

  • ৭-Oct-২০১৯ ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
Ads

:: আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ::

রেলপথ মন্ত্রানালয়ের সহকারি সচিব বগুড়ার সান্তাহার জংশন ষ্টেশন এলাকায় পরিদর্শনে আসার পর ষ্টেশনের এক নম্বর প্লাটফমের্র রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা ২৬টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তিতে উদ্ধার হওয়া এলাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। কিন্তু উচ্ছেদের ১৫ দিন পার না হতেই ওই স্থানে কাঁটা তারের ঘেরার মাঝে আবারো নতুন করে দোকান নির্মানের চেষ্টা শুরু করেছেন উচ্ছেদ হওয়া অবৈধ দোকানীরা। তাদের এ কাজে স্থানীয় সরকার দলীয় কিছু নেতা সহযোগীতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে । 

স্থানীয় এলাকাবাসিরা জানায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সহকারি সচিব জাহিদুল ইসলাম সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে পরিদর্শনে আসেন। তাঁর পরিদর্শনের আগেই ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ এক নম্বর প্লাটফর্মের পশ্চিম পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ২৬টি স্থাপনা সরিয়ে ফেলে। পরিদর্শনের সময় ষ্টেশন কর্তৃপক্ষ সচিব কে জানায়, ওই স্থানে কোন স্থাপনা ছিল না । সচিব ষ্টেশন পাশর্^বর্তি এলাকায় যেন কোন প্রকার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে ষ্টেশন মাস্টার ও রেল পুলিশকে সতর্ক করেন। তিন দিনের পরিদর্শন শেষে সচিব জাহিদুল ইসলাম চলে যাওয়ার পর ওই স্থানে পুনরায় মালামাল ফেলে দোকান তৈরীর উদ্যেগ নেয়া হয়।

এ পর্যায়ে সান্তাহার নাগরিক কমিটি ঝুকিঁপূর্ন ওই স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন,রেললাইন ঘেঁসে দোকান নির্মাণ করার ফলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা আশাংকা রয়েছে পাশাপাশি এসব দোকানে অবস্থান নিয়ে অপরাধীরা ষ্টেশন এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালায় । সমাবেশ থেকে পুনরায় দোকান নির্মান বন্ধে ষ্টেশন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন তাঁরা। তাঁদের দাবির মুখে রেল কর্তৃপক্ষ ও সান্তাহার পৌরসভা যৌথ উদ্যোগ নিয়ে উচ্ছেদকৃত এলাকা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়। 

সোমবার সরেজমিন ষ্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া দোকানীরা পুনরায় কাটাঁতারে বেড়ার মাঝে রেললাইন ঘেঁসে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করছে। ইতিমধ্যে ওই সকল দোকানীরা দোকান নির্মানের জন্য বিভিন্ন মালামাল এনে ষ্টেশনের পাশে স্তুপ করে রেখেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানী জানায়, স্থানীয় সরকার দলীয় কিছু নেতার আশ^াসের প্রেক্ষিতে তারা দোকান নির্মানের উদ্যেগ নিচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে সান্তাহার ষ্টেশনের ষ্টেশন মাস্টার রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুনরায় দোকান নির্মানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, এই জায়গা সংরক্ষন করার দায়িত্ব আইন শৃঙখলা রক্ষাকারি বাহিনীর।

সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই স্থান কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা রয়েছে। কেউ যদি সেখানে অবৈধভাবে কোন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সান্তাহার পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, তাঁর দলের কোন নেতা-কর্মি এই কাজে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Ads
Ads