সায়মা : বঙ্গনারীদের জন্য আরেকটি অনুপ্রেরণা

  • ৪-Oct-২০১৯ ১১:১৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশের নারীসমাজ এগিয়েছে দুরন্ত গতিতে। বিশ্বনেতৃত্বেও তারা রেখে চলেছেন বিশেষ অবদান। তারা সফল সংগঠক, উদ্যোক্তা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইটি, মেগাপ্রকল্প, সমাজসেবায়ও ভূমিকা রাখছেন রীতিমত, নিয়মিত। বেগম রোকেয়ার সেই ডাক ‘জাগো গো ভগিনী’ এখন আর তাই শোনাতে হয় না নারীকে। পুরুষের সম্পূরক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকেও ছাড়িয়ে গেছে তারা। বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নারীদের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বদা সচেষ্ট। তারই সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী ১০০ নারী নেতৃত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিভিত্তিক ‘গ্লোবাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম্স কনসোর্টিয়াম’-এর চেয়ারপারসন ড. ক্যাথলিন পাইক ‘ফাইভ অন ফ্রাইডে’ শিরোনামে ব্লগে সম্প্রতি এ তালিকা তুলে ধরেছেন। তালিকায় মানসিক অসুস্থতার বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, আইনজীবী, অলাভজনক পদের নেতা, লেখক, শিল্পী, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং চিকিৎসকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বিশ্বের দরবারে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের মাথা আরও উঁচু করেছে।

মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি, প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ। সায়মা বর্তমানে বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিস অর্ডারবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলের একজন সদস্য। অটিজম শনাক্তকরণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রমাগত শ্রম এবং আক্রান্তদের দুর্ভোগ হ্রাসে ও সচেতনতা তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এজন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে তাকে শুভেচ্ছা দূত হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিজে একটি অলাভজনক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সূচনা ফাউন্ডেশনেরও চেয়ারপারসন।

এই এনজিওটির মাধ্যমে তিনি মূলত নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার (এনডিডি) এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অ্যাডভোকেসি, গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পেরুর বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্ট্রো অ্যান সুলিভান ডেল পেরুর (সিএএসপি)’ মডেলটি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সব বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সূচনা ফাউন্ডেশন। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পেরুর মডেল বাস্তবায়নের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়াসকে সহযোগী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। সম্প্রতি এক কর্মশালার সিএএসপির দুই পদস্থ কর্মকর্তা ড. লিলিয়ানা মেও ও মিস ইয়ামি ওয়েমা প্রয়াসের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবককে প্রশিক্ষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রীকন্যা এসবের পাশাপাশি সেন্টার অর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অন্যতম ট্রাস্টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে অনুমোদিত স্কুল মনোবিজ্ঞানের একজন বিশেষজ্ঞ। ফ্লোরিডার ব্যারি ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা সায়মা ওয়াজেদ একজন নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড মেন্টাল হেল্থ বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষ বক্তা। তার প্রচেষ্টার কারণে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরি, নীতি ও কর্মসূচির পরিবর্তন এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় তিনটি আন্তর্জাতিক  গৃহীত হয়। অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন ও উদ্ভাবনীমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সিমা কলাইনু নামে নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি শিশু অটিজম কেন্দ্র ও স্কুল সায়মা ওয়াজেদকে ‘ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করে। প্রিন্সটন ক্লাব অফ নিউইয়র্কে আয়োজিত সিমা কলাইনু এবং এর আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আই কেয়ার ফর অটিজম’-এর বার্ষিক প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল রিনাউন্ড চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এছাড়া তিনি ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভূটানে অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারের জন্য ‘থিম্পু ডিক্লারেশন’ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশে অটিজম বিষয়টি সামনের সারিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় ২০১৪ সালে সায়মা ওয়াজেদকে ‘এক্সিলেন্স ইন পাবলিক হেলথ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত করে।

‘ঢাকা ঘোষণা’ এবং সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক (সান) প্রতিষ্ঠায় তার প্রচেষ্টা অটিজমকে এ অঞ্চল এবং অঞ্চলের বাইরে সামনের সারিতে এনে দিয়েছে। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর গৃহীত অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅ্যাবিলিটি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তি তাদের পরিবার ও সমাজের আর্থ-সামাজিক চাহিদা সম্বলিত জাতিসংঘের রেজুলেশন ৬৭/৮২ গ্রহণে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য কন্যা আমাদের গৌরব। তার সফল পথচলা ও দিকনির্দেশনা আমাদের নারী সমাজকে আরও এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে। বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের আন্তর্জাতিক এই প্রাপ্তিতে আমরা গর্বিত। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন।
 

Ads
Ads