বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিম-ফারুকের ঘণিষ্ঠ, ছাত্রশিবিরের নেতা আতাউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী!

  • ৪-Oct-২০১৯ ০৬:২৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিতর্কিত নেতা আতাউল্লাহ খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারত সফরে যাওয়ায় কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী একজন ব্যক্তি কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার সুযোগ পেলেন! পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আতাউল্লাহ খান কিভাবে ভারত সফরে গেলেন, তাঁরাও তা বুঝতে পারছেন না।

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা আতাউল্লাহ খান ছাত্রজীবনে প্রথমে ফ্রিডম পার্টি করতেন, পরে ঢাকায় গিয়ে শিবিরের নেতা বনে যান। তার বাবা মৌলভী মকবুল আহমদ মুসলিম লীগ করতেন। ভাইয়েরা জড়িত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিম ও ফারুক মহেশখালীতে এসে একাধিকবার তাদের গ্রামের বাড়িতে আতিথেয়তা নেন।বরাবরই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পৃষ্ঠপোষক এই পরিবারটির সদস্য হয়ে আতাউল্লাহ খান ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।

একসময় ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকা আতাউল্লাহ এখন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক আজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অনেকের ধারণা, আ’লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের এ রকম একজন সদস্য কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, এত দিন শুনেছি স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আমাদের দলে অনুপ্রবেশ করেছে। আর এখন দেখি ফ্রিডম-জামায়াতের ক্যাডাররা বঙ্গবন্ধু কন্যার সফরসঙ্গী হিসেবেই অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের দুঃখ পাওয়া ছাড়া, আর বলার কী থাকে!

এলাকাবাসী জানায়, আশির দশকের মাঝামাঝিতে আতাউল্লাহ খানকে অল্পবয়সে স্থানীয়ভাবে ফ্রিডম পার্টির মিছিল মিটিংয়ে দেখা যেত।১৯৯৬ সালে আতাউল্লাহ র ভাই শফিক উল্লাহ খান মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ফ্রিডম পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। তার হয়ে কুড়াল মার্কার প্রচারণা করেছেন আতাউল্লাহ। নব্বুই পরবর্তী তাদের গ্রামের বাড়িতে একাধিবার বেড়াতে আসেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিম এবং কর্নেল ফারুক। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে রাজধানীর লালবাগে চলে যান এবং ছাত্রশিবিরের নেতা বনে যান।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের এ রকম একজন সদস্য কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘আতাউল্লাহ খান যে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন, সে বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কেউ কিছু জানতেন না।’

আতাউল্লাহ খান ওরফে আতা খান সম্পর্কে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, রাজধানীর লালবাগে একসময় তিনি ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আতাউল্লাহ খানের ভাই শফিক উল্লাহ খান মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ফ্রিডম পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরের বছর আতাউল্লাহ খান ও তাঁর ভাই শফিক উল্লাহ খানের আমন্ত্রণে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে আসেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিম এবং কর্নেল ফারুক।

মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, ১৯৯৩ সালে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিবিরের এক সভায় আতাউল্লাহ খান আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন। এ ছাড়া পাঞ্জেরী শিল্পগোষ্ঠীর পরিবেশনায় আতাউল্লাহ খান রচিত একটি নাটিকায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীরাঙ্গণাদের নিয়ে কটূক্তি করা হয়। স্বাধীনতা বিরোধী পরিবার হিসেবে তাদের পরিবার এলাকায় পরিচিত। সেই পরিবারের সদস্য আতাউল্লাহ খান যে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন, সে বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কেউ কিছু জানতো না।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের সাংস্কৃতিক সংগঠন পাঞ্জেরী শিল্পগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরিচালক ছিলেন আতাউল্লাহ খান । তিনি বলেন,এই আতাউল্লাহ খান প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। সে কিভাবে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পেল, তা আমাদের বোধগম্য নয়।দলীয়ভাবে বিষয়টি আমরা অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কে এই বহুরূপীকে মুখোশ পাল্টানোর সুযোগ করে দিল, তাকে আগে খুজে বের করতে চাই।

মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ জানান, ‘আতাউল্লাহ খান জামায়াত-শিবিরের শিল্পগোষ্ঠী পাঞ্জেরীর কেন্দ্রীয় পরিচালক। তিনি প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই আতাউল্লাহ খান রাতারাতি মুখোশ বদলে গায়ে মুজিব কোর্ট নিয়ে অতীতের কর্মকাণ্ড মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

Ads
Ads