মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা নওশাদ

  • ৩-Oct-২০১৯ ১১:৪৫ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

লন্ডনে পলাতক চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন খানের প্ররোচনায় দায়েরকৃত তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবু মো. নওশাদ।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুমিল্লা নগরের ১ নং ওয়ার্ডের মুন্সেফ কোয়ার্টারের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়টি জানান বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের সাবেক সিবিএ নেতা নওশাদ। এ সময় তার স্ত্রী কুমিল্লা আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট শিরিন সরকার উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবু মো. নওশাদ বলেন, আমি সারাজীবন সত্যের পথে কাজ করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। আমি গত ৭ বছর যাবত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহীদ উদ্দিন খানের প্রত্যক্ষ মদদে র‌্যাব ও প্রশাসনের দায়ের করা তিনটি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছি। সম্প্রতি এ তিনটি মামলা থেকে আমি বেকসুর খালাস পেয়েছি। 

‘অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান অত্র এলাকায় সেনাবাহিনী এবং র‌্যাব সদস্যদেরকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে সর্বদা একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে রাখতেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০১৩ সালে আমার বাড়ির সামনে অবস্থিত রাস্তাটি অবৈধভাবে দখল করে তার শ্বশুর কাজী মশিউর রহমানের নামে নামফলক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে কাজ করার সময় আমি এই অবৈধ কাজে অসম্মতি জানাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি শহীদের রোষানলে পড়ে যাই। এরপরই তিনি তার ক্ষমতা দেখিয়ে র‌্যাব সদস্যদের আমাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে আমার বাড়িতে পাঠান। র‌্যাব সদস্যরা হঠাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যতিরেকে আমার বাড়িতে ঢুকে পড়েন। সেইসঙ্গে তারা আমাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে টেনে-হিঁচড়ে বের করতে চেষ্টা করেন। ওই সময় বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পেরে এলাকায় র‌্যাবের গাড়ির সামনে বিক্ষোভ করলে র‌্যাব সদস্যরা আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন। পরে শহীদ উদ্দিনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও তার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ইয়াবা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই সময় আমার স্ত্রী শিরিন সরকার সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। আর এই মামলা তিনটির মাধ্যমে আমি বিগত ৭ বছর যাবত ব্যক্তিগত পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে চরম হেনস্থা ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে যাই।’

তিনি আরও বলেন, শহীদের ইশারায় দায়ের করা এই মিথ্যা মামলায় আমি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি, আমার মানহানি হয়েছে, মানসিকভাবে আমি বিপর্যস্ত হয়েছি, মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি এই সাতটি বছর। আর জাল-জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলায় শহীদের কয়েক বছরের সাজাও  হয়েছে। বিনা কারণে অহেতুক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে যে হয়রানি করেছে সেই প্রতারক, দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজ শহীদ উদ্দিন খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে রাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করছি। 

শহীদ উদ্দিন খান সেনাবাহিনী থেকে ২০০৫ সালে চাকরিচ্যুত হয়ে বর্তমানে পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় পাঁচ বছরের জেল ও দু’টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

Ads
Ads