আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জানেন তাঁর দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীরা ভালো নেই

  • ৩-Oct-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

::জয়দেব দাশ::

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশটাকে যেভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন তা পারেননি চাটার দল এর কারনে। স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর তার কন্যা দেশকে গড়ার কাজ যখন শুরু করেছেন তখনো একটা চাটার দল তৈরি হয়েছে। বিষয়টা দ্রুত অনুধাবন করতে পেরে পিতার মতোই ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে চরম আঘাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাস,মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানে দলীয় নেতাকর্মী আত্মীয়-স্বজন পরিবার-পরিজন কোন পরিচয় অপরাধীকে আড়াল করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাড়ে তিন বছরের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সময় ৪২ জনের মতো এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। 

ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে চরম আঘাত করতে চেয়েছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই খুঁজে পেয়েছেন প্রকল্পগুলোর মধ্যে উইপোকা ঢুকে গেছে। বালিশ আর পর্দা কেলেঙ্কারির পর রাজধানীর বুকে অর্ধশতাধিক ক্যাসিনো আরেকজন জি কে শামীম মার্কা ঠিকাদারদের মুখোশ উন্মোচনের পর অনেক কিছুই সামনে চলে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে সরকারের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য স্পষ্ট। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত নগদ টাকা নিয়ে এখন অনেকেই বিপদে পড়েছেন। এখনো কেউ কেউ চিন্তা করছেন তিনি প্রভাবশালী সরকারি আমলা বা কর্মকর্তা অথবা রাজনীতিবিদ তাই হয়তোবা বেঁচে যাবেন।কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা থেকে সর্বশেষ আজ রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে বক্তব্য এবং ঘোষণা অনুযায়ী স্পষ্টভাবে অনুমান করা যাচ্ছে বাদ যাবেনা একটিও। এক-এগারোর মতো অভিযান এবারও হবে। এটা অনুমান করা যায়। তবে পার্থক্য হচ্ছে এই অভিযানের গুণগত কিছু পরিবর্তন থাকবে। 

যতদূর জেনেছি অযথা কাউকে হয়রানি করা হবে না। এখন পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ ছাড়া দেশবাসীর মধ্যে কোন আতঙ্ক নেই। সাধারণ মানুষের সাথে আলাপচারিতায় যেটুকু জেনেছি প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন তারা। গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে খবর পেয়েছি। কিন্তু একটি বিশেষ কাজে গতকাল ধানমন্ডি এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখলাম আসলে দুটি কার্যালয়ে মানুষের আনাগোনা বাড়েনি বেড়েছে সাবেক ছাত্র নেতাদের উপস্থিতি। এসব ছাত্রনেতারা বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্থ ছিলেন এবং এখনো আছেন। দলের অনেক শীর্ষ নেতার আশপাশে এতদিন যাদের দেখা গেছে তাদের অনেকেই অনুপস্থিত। ছাত্রলীগের এসব বঞ্চিত হতাশাগ্রস্ত নেতারা এখন পার্টি অফিসে এসে নিজেদের মধ্যে সুখের গল্প করতে না পারলেও দুঃখের গল্পগুলো শেয়ার করছে। তবে তাদের জন্য আশার কথা এটাই দলীয় সভাপতি জানেন তাঁর দুর্দিনের ত্যাগী কর্মীরা ভালো নেই। নতুনদের হঠাৎ উত্থান আর চাটুকারদের উলম্ফনে কর্মীদের দুর্দিন যাচ্ছে। চলমান এই অভিযানে একাধিক মন্ত্রী এমপি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মুখোশ উন্মোচিত হলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে আশ্বাস দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ দিবেন। তাই তার আহবানে শূন্য হাতে বুলেটের সামনে বেনেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল লক্ষ-কোটি বাঙালি। বিনিময় একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি আমরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার কথা রেখেছেন। প্রতিটি মুহূর্তে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে মৃত্যুকে বাজি ধরে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আবেগ ও সংগ্রামকে এক সুতোই গেঁথে ছিলেন। তাঁর কন্যাও আজ বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আর সংগ্রামকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেয়ার মত একটি দেশ গঠনের ব্রত নিয়ে আছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা-আপনি এমন একটি দেশ গড়বেন বিশ্ববাসী যা দেখতে আসবে, আপনার সেই আশ্বাসের প্রতি আমরা ১৬ কোটি বাঙালি আজ বিশ্বাস রাখতে চাই।

লেখক: সিনিয়র প্রতিবেদক, বৈশাখী টেলিভিশন (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)

Ads
Ads