প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর : অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা

  • ২-Oct-২০১৯ ১০:০৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের বিজয় অবধি তারা আমাদের পাশে থেকেছেন। মিত্রবাহিনী পাঠিয়েছে। এর পরেও সব দুইটি রাষ্ট্র পারস্পরিক সুসম্পর্ক অটুট রেখেছে। যদিও তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে বহু বছর ধরে। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফর এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়াও দেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আলোচনা হবে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। গতকাল বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনও জানিয়েছেন সেকথা। এর আগের দিন ভারতে বাংলাদেশের নিযুক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী নয়াদিল্লিতে তার কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কথা বলেন।

আগামী ৫ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষর হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চারদিনের সরকারি সফরে আগামীকাল নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি হবে প্রথম দিল্লি সফর। এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আলোচিত পানিবণ্টন চুক্তির এবার ফায়সালা হতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্কই বজায় রাখতে চায় বলেই দেখা  গেছে। কিছুদিন আগেও এনআরসি বিষয়ে তার বক্তব্যে এর প্রমাণ মিলেছে। এর মাধ্যমে তিনি তার দেশেও সমালোচিত হয়েছেন। অনেক রাজনৈতিক নেতার চক্ষুশূল হয়েছেন।’

এদিকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে ভারত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের পাশে আছেন বলে বারবার উল্লেখ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সফরে তাদের এই পাশে থাকার বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে। তাছাড়া সীমান্ত ইস্যু নিয়েও যথাযথ চুক্তি কিংবা আলোচনা হবে। যেটা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গাঢ় করবে। এই সফর অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেছেন, ‘আগামী ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু এবং সীমান্ত হত্যা ইস্যুটি আলোচনায় স্থান পাবে। হাসিনা-মোদির বৈঠকে তিস্তার সঙ্গে সকল আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহায়তা এবং সীমান্ত হত্যা কমিয়ে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সকল দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’ সফরকালে শেখ হাসিনা ৫ অক্টোবর দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রাম নাথ কোবিন্দ্রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার আবাসিক প্রাসাদে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

Ads
Ads