দুই বছরেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক!

  • ২-Oct-২০১৯ ০৭:২৮ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার। দুই বছর হলো এই কমিটির মেয়াদ। কবির হোসেনের কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ কমিটিতে আসার দুই বছরের মধ্যে তিনি কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করছেন আলিশান বাড়ি। কিনেছেন প্রায় দেড় কোটি টাকার গাড়ি। তবে পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, কমিটি গঠনের আগে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টা, চুরি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে চার্জশিটভুক্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কমিটি গঠনের পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ঝুট ব্যবসা দখল, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আশুলিয়া ও কাশিমপুর থানায় দায়ের করা হয় আরও চারটি মামলা। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পুলিশ।

থানার একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, কবির সরকারের কোনও ব্যবসা নেই। কমিটিতে আসার পর গত দুই বছরে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কিনেছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা দামের গাড়ি। নিজ এলাকায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে একটি ডুপ্লেস বাড়ি তৈরি করছেন তিনি।

সরেজমিনে কবির সরকারের নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই বাড়ি নির্মাণে ১০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কমিটিতে আসার পর থেকে বাড়ির কাজ শুরু হয়েছে।

সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, ‘বর্তমান আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর আগে কবির সরকারের থানা পর্যায় তো দূরের কথা ওয়ার্ড পর্যায়ে সদস্য পদেও নাম ছিল না। এমন একজন ব্যক্তিকে হঠাৎ করেই আশুলিয়ার মতো এলাকায় যুবলীগের আহ্বায়ক করায় সাবেক যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ।’

কবির হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িখোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় জন্ম কবির সরকারের। এই এলাকাতেই তিনি আলিশান বাড়িটি তৈরি করছেন। তিনি নিজে কাশিমপুর এলাকায় বাস করলেও আশুলিয়ার ঠিকানায় নিজের ভোটার আইডি কার্ড করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ২০১৩ সালে নাশকতা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে কবির সরকারকেও আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায়ও তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।

এদিকে, কমিটিতে আসার এক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে জমি দখল ও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠে যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি উজ্জ্বল সরকার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কবির সরকারকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

এছাড়া এ বছর ২২ মে কাশিমপুরের ছাত্রলীগ নেতা লিমন সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় পুলিশ কবির সরকারকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয় ।

সাবেক যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আসার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠন নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। ইয়ারপুর ইউনিয়নে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে জানতে কবির হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি রজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। প্রতিহিংসা থেকে আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ads
Ads