রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, সরকারের সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবিদার

  • ১-Oct-২০১৯ ১০:৪৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দেশের যেকোনো সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভূমিকা রেখেছে। কিছুদিন আগেও ডেঙ্গু মোকাবিলায় ফ্রি চিকিৎসা, রক্তদানসহ প্রশংসিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তারা।  প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের পদক্ষেপ দেশে-বিদেশে হয়েছে প্রশংসিত। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর বিশেষ ভূমিকার কথা মনে রেখেছেন সবাই। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘গুলশানের হলিআর্টিজনে হওয়া সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের অপারেশনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং আপনাদের এই কার্যক্রমকে আমি স্যালুট জানাই। আপনাদের দেশের শান্তি রক্ষায় আপনারা কতটা বদ্ধপরিকর তা প্রমাণ করে এই অপারেশন।’ আর এবার তারা রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে । সরকারের সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সফলভাবেই এগিয়ে যাবে। 

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ দুবছর হলো। এরই মধ্যে তারা এই দেশে আশ্রিত থেকেই মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, হত্যা-খুন-গুমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে ইতোমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও ডাকাত মৃত্যুবরণও করেছে। মাস খানেক আগে রোহিঙ্গারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাবেশ করেছে। চট্টগ্রামের কক্সবাজারে স্থানীয়দেরকেই নানা হুম-ধমকির মধ্যে রেখেছে তারা। তাদের মোবাইল ফোনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে সীম এনে ব্যবহার করছে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট। যার মাধ্যমে ঘটিয়ে চলেছে একের পর অপরাধ কর্ম কাণ্ড। কিছু দুর্নীতিবাজ ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আঁতাত করে হাতিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। অনেকে আবার ক্যাম্পে থেকেই হয়ে উঠেছেন লাখপতি। বেশ কয়েকজন হয়েছেন কোটিপতিও। তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সব সময় উদ্যোগ রেখেছে। এবার সেই উদ্যোগের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে নিযুক্ত করা হয়েছে। গত সোমবার চট্টগ্রামের হালিশহরে আর্টিলারি সেন্টার ও স্কুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪টি গোলন্দাজ ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘সম্প্রতি সেনাবাহিনীকে একটা দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। যে ১১ লাখ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আছে, তারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে যখন-তখন, যত্রতত্র চলে যাচ্ছে। ক্যাম্পের বাইরে নানা ঘটনা ঘটছে। সরকার এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ক্যাম্প ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেনাবাহিনীকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের গতিবিধি যাতে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সরকার সেনাবাহিনীকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। সুতরাং এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, আমরা সেটা যথাযথভাবে করব। পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। সেনাবাহিনী অবশ্যই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করবে এবং রোহিঙ্গাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করবে।’ জেনারেল আজিজ আহমেদ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর যে চিন্তা-চেতনা সেটাকে বাস্তবায়ন করা, সেটাকে সমর্থন দেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের কাজ হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাকে সমর্থন করে যাওয়া এবং এটার জন্য যা দরকার তা করে যাওয়া। আর রোহিঙ্গা সংকটে সেনাবাহিনীকে এ পর্যন্ত যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা চেষ্টা করেছি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেটা সুন্দরভাবে পালন করতে।’


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত। দেশমাতৃকার অখ-তা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে জনগণের সেবায় তাদের পাশে এসে কাজ করেছেন সেনাসদস্যরা। শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, বিশ্বপরিম-লেও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে, বয়ে আনছে সুনাম ও মর্যাদা। সেবা ও কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে আমাদের সেনানীরা জনগণের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমস্ত জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এবারও তারা সফল হবে। 

Ads
Ads