প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ভাবতে পারে নোবেল কমিটি

  • ৩০-Sep-২০১৯ ১১:৪৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশকে বলতে গেলে একাই এতদূর এগিয়ে নিয়ে এসেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশেই নয়, বিশ্বদরবারে তিনি অনুকরণীয় একজন প্রধানমন্ত্রীতে পরিণত হয়েছেন। দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা প্রশংসিত হয়েছে। রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন। উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে তিনি নিয়ে গেছেন মধ্যমআয়ের দেশের তালিকায়। উন্নত দেশে পরিণত করতেও তিনি নিয়েছেন নানা পরিকল্পনা। তিনি মানবতা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও উন্নয়নের নেত্রী। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছেই। 

ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছেন। আমাদের রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। রফতানি ১০ বিলিয়নের জায়গায় ৩৯ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। মাথাপিছু আয় চারশ থেকে আঠারোশ ডলার হয়েছে। এক সময় তালিকার তলানিতে পড়ে থাকা বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সম্ভাবনাময় ১২টি দেশের মধ্যে একটিতে স্থান করে নিয়েছে। জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন করেছেন। ফলে তাকে নিয়ে ভাবতেই পারে নোবেল কমিটি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ সদর আসনের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিমও এসব কথা উল্লেখ করে গত রোববার বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।’ তিনিও এক বক্তৃতায় নোবেল কমিটিকে ভাবতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের অং সান সু চিকে তিনটি কারণে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে অং সান সু চিকে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে নোবেল কমিটির প্রেস রিলিজে বলা হয়, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য তার অহিংস সংগ্রামের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করে। অপর এক কারণে বলা হয় তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে একজন আদর্শ হিসেবে পরিণত হয়েছেন। অথচ ক্ষমতায় আসার পরপরই তার আসল চিত্র ফুটে ওঠে। রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে তারই সামরিক বাহিনী। কিন্তু তিনি নীরব। অন্যদিকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের বুকে ঠাঁই দেন। তাদের নিরাপত্তাসহ প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করে আসছেন। ক্ষমতায় থেকেই তিনি দেশ থেকে সব ধরনের অপরাধ ও অপকর্মকে নস্যাৎ করার জন্য সংগ্রাম করে চলেছেন এবং ইতোমধ্যে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠাও করেছেন। এমনকি প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই পারস্পরিক উন্নয়নমূলক কাজেও অংশ নিয়েছেন। 

১৯৭৯ সালে মিশরের আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের মেনাশিম বেগিনকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয় শুধু ইসরায়েল-মিশরের দ্বিপাক্ষিক শান্তিচুক্তির কারণে। অথচ কথিত আছে, দুজনেই ব্রিটিশ আমলে সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ড. ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়, যেখানে দেশের জনগণই তাকে মাইক্রোক্রেডিট নামে রক্তচোষা বলে অভিহিত করে থাকেন। দেশের কোনো মঙ্গলেই তিনি কাজে আসেননি, কাজে আসেননি বিশ্বমানবতার মঙ্গলে। 
সব দিক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুকন্যা আপসহীনভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াকু সৈনিকের মতো দেশ পরিচালনা করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। বিশ্বদরবারে দেখিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেনÑ আমরাও পারি। 

Ads
Ads