জামায়াত-বিএনপি পরিবারের কাছে ছাত্রলীগের পদ বিক্রি করে ফেঁসে যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের লিমন-আশরাফ!

  • ২৩-Sep-২০১৯ ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

::সিনিয়র প্রতিবেদক::

নানা অপকর্মের পর এবার কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লিমন ঢালী ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী ফেঁসে যাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত পরিবারের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করার মতো গর্হিত কাজ করার অপরাধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার  ইমরুল হাসানকে টাকার বিনিময়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে মনোনীত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে ইমরুল হাসানের আপন বড় ভাই বর্তমান উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং তার আপন ছোট চাচা আব্দুল হাসিম  ইউরোপীয় ইউনিয়নের জামাত ইসলামের নেতা। শুধু তাই নয় তিনি কুখ্যাত রাজাকার কামরুজ্জামানের বন্ধু এবং বিশ্বস্ত সহচর। টাকার বিনিময়ে পদ ভাগিয়ে নেয়া ইট ভাটা ব্যবসায়ী ইমরুলের মেজ  চাচা মোঃ ইদ্রিস আলী ইদু উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং স্থানীয় বিএনপির অর্থের যোগানদাতা।  স্থানীয় সূত্র আরো জানিয়েছে, ইমরুলের পরিবার নিবন্ধন হারানো সন্ত্রাসী দল জামায়াত ইসলামের অর্থায়নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আলতাফ নিসা ফাউন্ডেশন  ও ইবনে তাইমিয়া মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা।
 
মূলত জামায়াত বিএনপি পরিবারের এই  ছাত্রলীগ নেতাকে  উপজেলা  ছাত্রলীগের সভাপতি বানানোর জন্য টাকার বিনিময়ে জেলা ছাত্রলীগের পদ দেয়া হয়েছে। কারণ জেলা ছাত্রলীগ পুর্নাঙ্গ হওয়ার পর গঠন্তন্ত্রের তোয়াক্কা না করে কোন বর্ধিত সভার অনুমতি না নিয়ে চিঠির মাধ্যমে এই পদবী দেয়া হয়। উল্লেখ আগামী ৫ ই অক্টোবর নিকলী উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। যদিও  ছাত্রলীগের রাজনীতির বয়স অনেক আগেই শেষ  গেছে তার -জন্ম তারিখ ও ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৩০ বছর ছয় মাস। ইমরুলের ভোটার আইডি কার্ড পরিচিতি নং ১৯৮৯৪৮১৭৬৭৬২৪৪৫২৪।

একদিকে জামায়াত - বিএনপি পরিবার অন্যদিকে বয়স নেই ছাত্রলীগ করার তারপরে ও কেন থাকে নেতা বানাতে উঠে পরে লেগেছে, সে বিষয় খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অনেক তথ্য। ইমরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগেরও শেষ নেই। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তলন করার পাশাপাশি মেসার্স সামিয়া ব্রিকস ও কামাল ব্রিকস মিল নামে দুইটি অবৈধ ব্রিকস মিল পরিচালনা করেন তিনি। 
নিকলী উপজেলা সদরে রয়েছে একটি অবৈধ ডাইগনিস্টিক সেন্টার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই অবৈধ সব ব্যবসাকে হালাল করার জন্যই আওয়ামী লীগের পরিচয় লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ইমরুল ও তার পরিবার। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই জানিয়েছেন, ইমরুলের মতো বিতর্কিত লোকের ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নেয়ার মুল শক্তি অবৈধ টাকা ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক রানা। তার আপন বিয়াই হওয়ার কারনেই এতো দাপটের সাথে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কি উপজেলার বর্তমান সভাপতি তার কাছ থেকে মাসিক মাসোহারা নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে ইমরুল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লিমন ঢালী ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলীকে ম্যানেজ করে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ বাগিয়েছেন।

এ ব্যপারে নিকলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান  বলেন অতি দ্রুত তাকে বহিষ্কার করে জেলা ছাত্রলীগকে কলঙ্ক মুক্ত করা হোক। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ইমরুল হাসানের বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন। তারা আরো বলেন ইমরুলকে শুধু বহিষ্কার নয়, যারা তাকে এই পদে অনুপ্রবেশ করিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া দরকার। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লিমন ঢালী ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলীকে ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) লেখক ভট্টাচার্য নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে মেয়াদোর্ত্তীণ কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লিমন ঢালী ও সাধারণ সম্পাদক আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নিমিত্তে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। আগামী ৩ কর্ম দিবসের মধ্যে স্বশরীরে হাজির হয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিজেদের অবস্থান ব্যাখা করারও নির্দেশ দিয়েছেন। 

তবে, বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্যকে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ দেয়ার মতো আদর্শচ্যুত কাজ করার অপরাধে লিমন ঢালী ও আশরাফ আলীকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করেন ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তারা মনে করেন, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের দুইজন শীর্ষ নেতাই বিবাহিত। এমনকি টাকার বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্য করার পুরোনো অভিযোগও রয়েছে। আদর্শিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ আগেও বহুবার করেছেন। এবার আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কাছ থেকে যথোপোযুক্ত শাস্তি পাবেন বলেও মনে করেন সংগঠনের আদর্শিক নেতাকর্মীরা। 

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভোরের পাতাকে বলেন, ছাত্রলীগে আর কোথাও কোনো বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সন্তান পদ পাবে না। এক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি টাকার বিনিময়ে ইমরুলকে পদ দিয়ে থাকেন; তাহলে সবাইকে বহিষ্কার করার মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই নতুন করে পদ পাওয়া ইমরুল হাসানকে আগে বহিষ্কার করা হবে। 

Ads
Ads