যুবলীগ নিজেরাই শোধরানোর পথ বেছে নিয়েছে: ওবায়দুল কাদের

  • ১৬-Sep-২০১৯ ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বিআরটিসিকে স্বচ্ছ করতে এবং সকল পর্যায়ের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যারা পকেটের কথা ভাবে তাদের বিআরটিসিতে রাখার কোন প্রয়োজন নেই। সর্ষের মধ্যে ভুত আছে-এ ভুত কারা?

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিআরটিসি’র কর্মকর্তা এবং ডিপো ম্যানেজারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে মতিঝিল সড়ক পরিবহন ভবনে বিআরটিসি নতুন চেয়ারম্যান এহসান-ই এলাহীকে এ নির্দেশ দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পাবলিক সার্ভিস গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে যদি স্ব”ছতা নিশ্চিত করা যায় তাহলে বিআরটিসি লাভের মুখ দেখবে। বিআরটিসি গাড়ীগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্মবান পাওয়ার কোন লক্ষণই দেখছিনা।

বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ও আগুন সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ওই সময় বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা বিআরটিসির অনেক গাড়ী পুড়েছিলো। কিš‘ অন্যান্য গাড়ীগুলো রাস্তায় চলাচল করে সেগুলোর চেহারা চেনা যায় না।

বিআরটিসির ডিপো ম্যানেজারদের উদ্দেশ্য মন্ত্রী বলেন, ডিপো ম্যানেজার যারা দায়িত্ব পালন করেন। তারা কতটা আন্তরিক, আন্তরিকতা বাড়াতে হবে। যারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে না। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে বিআরটিসি চেয়ারম্যানকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিআরটিসির ওপর নজর দারি বাড়াতে হবেও বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দায়িত্ব অবহেলাকারী ব্যক্তির যদি কোন শাস্তির ব্যব¯’া না থাকে। তাহলে বিআরটিসি লাভবান করা যাবে না।

'বিআরটিসির কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছে না'-এ ধরনের রিপোর্ট মিডিয়াতে না হওয়ার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধরনের রিপোর্ট যেন না দেখতে হয় আমাকে।

যতই প্রভাবশালী হোক বিআরটিসিতে আবেদন করে যেন ব্যক্তিগত কাজে গাড়ী না নিতে পারে-এবিষয়ে নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যতই প্রভাবশালী হোক না কেন কোন প্রকার গাড়ী দেওয়া যাবে না। আবেদন গ্রহণ করা যাবে না। টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও তাগিদ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বসে থাকলে চলবেনা। নজরদারি বাড়াতে হবে। বিআরটিসি যেন নতুন উদ্যামে গুনমানে সজ্জিত হয়।

অপকর্ম করলে কেউ ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, দলের যত বড় নেতাই হোক না কেন, অপকর্ম করলে কেউ ছাড় পাবে না। যেসব নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেছে, তারা কেউই ছাড় পাবে না।

তবে সবার বিরুদ্ধেই দলীয় বেবস্থা নেয়া হবে না, অনেকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবেও বেবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতাকর্মীদের

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সংস্থার প্রতিবেদন রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনও প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেও বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এ সিদ্ধান্ত দেয়ার সময় তিনি যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে ছাত্রলীগের পদচ্যুত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা ওই সময় হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ এ ধরনের কাজ করলে মেনে নেয়া হবে না।

ছাত্রলীগের মতো যুবলীগের কমিটিও ভেঙে দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগ নিজেরাই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে একটি সেল গঠন করেছে। তারা নিজেরাই শোধরানোর পথ বেছে নিয়েছে।

এসময় বিআরটিসির চেয়ারম্যান তৌফিক-ই এলাহীসহ বিআরটিসি’র কর্মকর্তা এবং ডিপো ম্যানেজাররা উপস্থিত  ছিলেন।

Ads
Ads