বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট : আইসিটি উদ্যোক্তাখাতে ভালো উদ্যোগ

  • ১৪-Sep-২০১৯ ১০:১১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান :: 

২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। গত এক দশকে বাংলাদেশ ডিজিটাল বিপ্লবের নবদিগন্তের সূচনা করেছে। সরকার স্বল্প সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দিয়েছে, যার সুফল গ্রামের মানুষও ভোগ করছে। হাইটেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে সরকার প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রজন্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যারা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক এই অবিস্মরণীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আখ্যায়িত করছেন ডিজিটাল রেনেসাঁ বা ডিজিটাল নবজাগরণ হিসেবে। আর এই ডিজিটাল নবজাগরণ সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা বঙ্গবন্ধুর নাতি সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ এবং নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এরই মধ্যে আইসিটি উদ্যোক্তাদের মূলধন যোগাতে চালু হতে চলেছে ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’। এই প্রকল্পের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তিতে ‘হার্ডওয়্যার অ্যান্ড আর অ্যান্ডডি’ খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে ১০ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন জোগাবে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ। যুগান্তকারী এই পদক্ষেপ আমাদের আইটি খাতকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

বর্তমান সরকার আইসিটি খাতে মনোযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতকে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসু করতে নানাবিধ গবেষণা করে চলেছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে জেলায় জেলায় গিয়ে উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ আলোচনা করেতে দেখা গিয়েছে। উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নানামুখী পদক্ষেপও নিয়েছেন। ২০১৫ সালেই সারা দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কানেক্টিভিটি স্থাপনের জন্য বাংলাগভর্নেট ও ইনফো সরকার-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সে বছরই সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয়, ২২৭টি অধিদফতর, ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা ও উপজেলার ১৮,৫০০টি সরকারি অফিস নেটওয়ার্কের আওতায় আসে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ওয়েবহোস্টিং ক্ষমতা ৭৫০ টেরাবাইটে উন্নীত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিসিসি’র এলআইসিটি প্রকল্পের আওতায় একটি বিশেষায়িত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যান্ড অ্যানালাইটিক ক্লাউড ল্যাব এবং একটি স্পেশাল সাউন্ড ইফেক্ট ল্যাব স্থাপন করা হয়। এ ছাড়াও ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা হয়।

এগিয়ে চলা আইসিটি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে দুই বছরের মাথায় ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ ও ন্যাশনাল ডেমো ডে’ উদযাপিত হয়। সে বছর ঢাকাকে উদ্যোক্তা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে এক হাজার উদ্যোক্তা নির্বাচিত করে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সুবিধাসহ ব্যবসা বাড়াতে সবধরনের সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। তারই পথ ধরে আইসিটি উদ্যোক্তাদের মূলধন যোগাতে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রকল্প এসেছে। এই প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তাদের সব থেকে বড় অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান হবে। অন্যদিকে এই খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাও সৃষ্টি হবে। সফটওয়্যারের পাশাপাশি হার্ডওয়ার তৈরিতে এগিয়ে আসবে উদ্যোক্তারা। পরিকল্পনা করে  এগোতে পারলে দেশের চাহিদা পূরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারেও অবস্থান করে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন কিছু না। 
 

Ads
Ads