বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বিশ্বে রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

  • ১০-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কাছে রোল মডেল হিসাবে গণ্য হবে বলে আমি মনে করি। আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ একটা সুসম্পর্ক বজায় রেখেছি। এ সুসম্পর্ক আমাদের পারস্পরিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে, তাতে আমাদের দুই দেশের জনগণ লাভবান হচ্ছে। আমাদের উন্নয়নে সমর্থন দেয়ার জন্য আমি শ্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে তিনটি প্রকল্প নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। 

তিনটি প্রকল্প হচ্ছে- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি বিষয়ক প্রকল্প, বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন এবং আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও সেদেশের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে আমরা সব সময়ই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। এটি আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চিরদিনই একটি মাইলফলক হিসাবে বজায় থাকবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দু’দেশের মধ্যে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ব্লু ইকনোমি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণার মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতেও কাজ আমরা শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি বর্তমানে রেলওয়ে খাতে আমাদের দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বাংলাদেশের ও ভারতের মধ্যে মালামাল পরিবহনের জন্য আমরা ১৯৬৫-পূর্ব রেল সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, আমরা শীঘ্রই লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারতীয় অর্থায়নে যৌথভাবে ঢাকা ও টঙ্গীর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং টঙ্গী ও জয়দেবপুরের মধ্যে ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের ভিত্তিফলক স্থাপন করতে পারবো।

বিদ্যুৎ উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাত আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমানে ভারত থেকে আমরা ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ভারত থেকে আরও ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত সাড়ে ৯ বছরে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ১৩ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ৫৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। তবে আমাদের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য আরও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এজন্য আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর অধীনে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছি। আমি আশা করি, এই লক্ষ্য অর্জনে ভারত আমাদের পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশকে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়ার কথা জানিয়ে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতির বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী মমতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আশা করি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিজি এ ব্যাপারে নিশ্চয় সম্মতি দেবেন।

/ই

Ads
Ads