ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে ফেঁসে যাচ্ছেন খোদ জাবি উপাচার্য ফারজানা!

  • ১৩-Sep-২০১৯ ১০:০৬ অপরাহ্ন
Ads

::উৎপল দাস::
জাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়নের জন্য প্রথম ধাপের ৪৫০ কোটির টাকার প্রকল্পের মধ্যে শেখ হাসনিার মনোনীত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার চাঁদাবাজির যে অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উল্টো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিজেই এ প্রকল্পে টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। জাবির নির্ভরযোগ্য সূত্র ভোরের পাতাকে জানিয়েছে, উপচার্যের স্বামী স্বামী আখতার হোসেন, ছেলে প্রতীক হোসেন এবং প্রকল্প পরিচালক নাসির মিলে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন।

ভোরের পাতার অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাবি উপাচার্য এ প্রকল্প অনুমোদনের পর থেকেই তার স্বামী এবং সন্তানকে দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে তদবির করাতে শুরু করেন। এমনকি প্রকল্প পরিচালক নাসির দরপত্রে অংশ নেয়া প্রতিটি কোম্পানির কাছ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে বলে যাদের সাথে বনিবনা হয়েছে তাদের কাছ থেকে অগ্রিম এক কোটি টাকা করে মোট ৫ কোটি টাকা আদায় করেছিলেন। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীলকেই এ টাকার ভাগ তো দূরের কথা জানানোই হয়নি। তবে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক নাসির ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকের সাথে টেলিফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও অসত্য। 

এদিকে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে ২ কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছেন এমন অভিযোগ করলেও সেটির পরিপূর্ণ সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মেয়াদোর্ত্তীণ জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি হওয়া ফারজানা ইসলাম নিজের স্বামী ও সন্তানের ভাগ হালাল করার জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই টাকার মধ্য থেকে শোভন রাব্বানীকে কোনো ভাগ দেয়া হয়নি। 

তবে, জাবি ভিসি ফারজানাকে মোট ৬ টি প্রকল্পের মধ্যে ১ টি প্রকল্পের কাজ দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক জাকসু ভিপি এনামুল হক শামীমকে দিয়ে ফোন করিয়ে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অনুরোধকৃত কোম্পানিকে কোনো কাজ দেয়া হয়নি। শোভন রাব্বানীর অনুরোধকৃত কোম্পানির চেয়ে অধিকতর বেশি মূল্যে অন্য একটি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে। ব্যয় বেশি দেখিয়ে কমিশনের টাকা বেশি আদায় করতেই এমনটা করেছেন প্রকল্প পরিচালক নাসির এবং ভিসির স্বামী ও সন্তানের অশুভ সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসাবে নিজেই পেছন থেকে সব কলকাঠি নেড়েছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। 

উপাচার্যের ওই অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। উপাচার্য ম্যাম ঈদের আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেন। তার একটি টাকাও আমাদের ছিল না।’

রাব্বানী আরও বলেন, ‘উপাচার্য ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করে।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করেছে, তা উদ্দেশ্যমূলক এবং মানহানিকর।’

এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের পাতাকে বলেন, উপচার্য ফারজানা ইসলামের স্বামী ও সন্তান মিলেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে লুটপাটের রাজ্য খুলে বসেছে। যেকোনো নিয়োগ থেকে শুরু করে সকল প্রকল্পেই তারা নাক গলাতে শুরু করেন। একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে ভিসির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলারও সাহস পাচ্ছেন না। তারা সবাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় ইচ্ছা করলে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে ভিসির বিরুদ্ধে তদন্ত করলে সব সত্যি ফাঁস হয়ে যাবে বলে মনে করেন। আর সর্বশেষ যে মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির কথা গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে যেসব কোম্পানি কাজ পেয়েছে বা যারা কাজ পায়নি তাদের সঙ্গে কথা বললেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

এদিকে, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। সেখানে কোনো ধরণের চাঁদাবাজি তো দূরের কথা কোনো কিছুর জন্যই আসেনি শেখ হাসিনার মনোনীত ছাত্রলীগের শোভন ও রাব্বানী। এমনকি একই কোম্পানি ঢাবিতে এবং জাবিতে কাজ পেয়েছে। কিন্তু জাবিতে কাজ পেতে তাদের অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

Ads
Ads