বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় অনন্য সুযোগ

  • ১২-Sep-২০১৯ ১০:০৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রিটেনেরই যেতে পছন্দ করে। আর ব্রিটেনে প্রতি বছর ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে পড়তে যান চার লাখের অধিক শিক্ষার্থী। পড়ালেখার মান, স্কলারশিপ সুবিধা ছাড়াও একসময় সেখানে খ-কালীন চাকরির সুবিধা থাকায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এই দেশটি। সেজন্য ২০১০ সালে টিয়ার ফোর ক্যাটাগরিতে স্টুডেন্টস ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে গিয়েছিল হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু দুই বছর পার না হতেই ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরিজা মে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার মাসের বেশি ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না বলে নিয়ম জারি করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজের ওপরও আসে নিষেধাজ্ঞা। ফলে নানা সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খেতে থাকে ব্রিটেন প্রবাসী শিক্ষার্থীদের অনেকেই।

অন্যদিকে অভিবাসন নীতিমালা ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণেও আতঙ্কের মধ্যে পড়েন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ব্রিটিশ হোম অফিস বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছে। যেখানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের জন্য দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি থাকছে। তাছাড়া পড়ালেখার পাশাপাশি থাকছে কাজের সুযোগও। যদিও মাইগ্রেশন ওয়াচ নামে একটি প্রচারণা গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে ‘পশ্চাৎমুখী’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘নতুন পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বুঝতে এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের পেশা গড়ে নিতে সহায়ক হবে।’ আর অনন্য সুযোগ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুখবর। 

ব্রিটেনের এক সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই থাইল্যান্ড, চীন, ভারত ও আমেরিকার শিক্ষার্থীরা ব্রিটেন ত্যাগ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ, রাশিয়া, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শিক্ষার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্থায়ী বসবাসের জন্য অনেকে চেষ্টা করেন। আবার এসব দেশের কিছু শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়ালেখা বন্ধ করে দেন। ফলে ব্রিটেনে থাকার বৈধ অনুমতিপত্রও হাতছাড়া হয় তাদের। ফলে যখন পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরির অনুমতি ছিল, তখনো তারা চাকরি না পেয়ে নানা জটিলতার শিকার হয়। অনেককে আবার ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি হাসিলের জন্য আদালতে লড়াই করতে গিয়ে আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হতেও শোনা গেছে। বরিস জনসনের বর্তমান নীতি আর যাই হোক, এমন দুরবস্থায় পৌঁছতে দেবে না শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে বাংলাদেশের মেধাবীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য সেখানে গিয়ে সুন্দর ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। যদিও আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতক পর্যায়ে কিংবা তার থেকে উঁচু কোনো ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করতে গেলেই এই পরিবর্তিত নিয়মের সুযোগ পাবে তারা। তবে নতুন সুবিধা গ্রহণের জন্য শর্ত থাকবে। যেনতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে এই সুবিধা পাবে না শিক্ষার্থীরা। শুধু যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ইতিহাস আছে, তাদের শিক্ষার্থীরাই এ সুযোগ পাবে। নতুন প্রস্তাবনার আওতায়, শিক্ষার্থীরা কী ধরনের কাজ বা কতটি কাজ করতে পারবেন তার ওপরও কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার ‘গর্বিত ইতিহাস’ রয়েছে ব্রিটেনের। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বের উজ্জ্বল এবং মেধাবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা আর কাজ করার জন্য সুবিধা উন্মুক্ত না হলে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর এ জন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।’ অন্যদিকে ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী অ্যালেস্টার জারভিস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের জন্য ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব বয়ে আনে বলে প্রমাণ রয়েছে। সঙ্গে অর্থনীতিতে যোগ করেছে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু বেশ দীর্ঘ সময় ধরে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ না থাকায় যুক্তরাজ্য এসব শিক্ষার্থীকে আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ ব্রিটেনের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবোট বলেছেন, ‘লেবার পার্টি বরাবরই বলে আসছে যে, স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পর কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। অথচ দুঃখজনক যে, এর আগে এই পদক্ষেপের বিপরীত পদক্ষেপ নেওয়ার সময়ও মন্ত্রীরা তা সমর্থন করেছিল।’

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য থেকে এটা অন্তত স্পষ্ট যে, সেদেশে অভিবাসী শিক্ষার্থীর জন্য খুলে দেওয়া এই পথ খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ হচ্ছে না বা পরিবর্তনের ইচ্ছেও তাদের নেই। ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রিটেনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে একেবারেই নতুনভাবে।

Ads
Ads