বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন! পর্ব:০১

  • ১১-Sep-২০১৯ ১০:০৫ অপরাহ্ন
Ads

উৎপল দাস

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসিমউদ্দীন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এলাকার বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের পৃষ্ঠপোষকতা নয়, স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি হিসাবে অর্থ লোপাট, কোমলমতি ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের প্রতি কুনজর দেয়া, ব্যাক্তিস্বার্থে স্কুল ও কলেজের সবকিছু ব্যবহার করার মতো অভিযোগও রয়েছে এ কে এম জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা হয়েও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের বাইরে গিয়ে বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসিম উদ্দিন বরাবরই বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে সাথে নিয়ে রাজনীতি করছেন। এমনকি তার সঙ্গে রাজনীতি করে না বনানী আওয়ামী লীগের তৃণমূল কোনো নেতাকর্মী। 

বনানী থানা আওয়ামী লীগের এই বিতর্কিত সভাপতি জসিম উদ্দিন বারবারই বিএনপি জামায়াতের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা ও প্রেম দেখিয়ে আই পি এইচ স্কুল এন্ড কলেজ মহাখালীর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসাবে সদস্য হিসাবে যাদের নির্বাচিত করেছেন তাদের মধ্যে তিনজনই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। 

বিএনপি জামায়াত থেকে যে চারজনকে অভিভাবক সদস্য হিসাবে কারসাজির মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন তারা হলেন সেলিম আহমেদ রাজু, সিরাজুল ইসলাম এবং রুনু। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী ও নাশকতা মামলাও রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের গভনিং বডিতে নিয়ে এসে গত এক বছর আগে যেখানে আই পি এইচ স্কুল এন্ড কলেজের তহবিলে ৭৪ লাখ টাকা ছিল। সেটি বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩ লাখে। বাকি টাকা সদস্যদের জোর করিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে নিজেই লোপাট করেছেন বলে দাবি করেছেন স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক শিক্ষক। 

এদিকে, শুধু টাকা লোপাট করার জন্য বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জসিম উদ্দিন বারবার তাদের মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে এই ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যখনই তার কথায় অন্যান্য সদস্যরা স্বাক্ষর না দিয়ে থাকেন তখনই মামলার হয়রানি শুরু হয় বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একজন অভিভাবক প্রতিনিধি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সদস্য বলেন, আমরা সরকার দলীয় লোক ভেবে এ কে এম জসিম উদ্দিনের কাছে সাহায্যের কাছে গিয়েছিলাম। অভিভাবক প্রতিনিধি হওয়ার জন্যও তাকে টাকা দিয়েছিলাম। এখন তিনি সকল অপকর্ম আমাদের স্বাক্ষর জোর করে নিয়ে করছেন। 

এদিকে, আই পি এইচ স্কুল এন্ড কলেজের কয়েকজন অভিভাবক বলেছেন, একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সকল অপকর্ম করে যাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার মানোন্নয়ন তো দূরের কথা কোনো কাজই করছেন না তিনি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে এ কে এম জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

আগামী পর্বে: বনানী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতির অনৈতিক কার্যকলাপ ও নারী কেলেংকারি!

Ads
Ads