রফতানি বাড়াতে নতুন বাজার খুঁজে বের করুন, জাতীয় রফতানি ট্রফি বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী

  • ২-Sep-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রফতানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কেও রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। দেশের রফতানি খাতের সম্প্রসারণ এবং রফতানি বহুমুখীকরণসহ নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রফতানি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে জাতীয় রফতানি ট্রফি ২০১৬-১৭ বিতরণকালে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রফতানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে, তাদের কাজে আমরা সহযোগিতা করব।’

বিজয়ী স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে এই ট্রফি এবং সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ২৯টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য এবং ১৬টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করেন তিনি। ‘জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’ টানা ষষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ রফতানিকারক হিসেবে ২০১৬-১৭ সালের রফতানি স্বর্ণ ট্রফি জয় করে।

‘জাবের অ্যান্ড জুবায়ের লিমিটেড’ ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের জন্য আরও একটি স্বর্ণ ট্রফি লাভ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম এবং এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বেগম ফাতিমা ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিল্প সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিদেশি কূটনিতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দেশের রফতানি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে জাতীয় রফতানি ট্রফি ২০১৬-১৭-এর ২৯টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য এবং ১৬টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে দেশের রফতানি বাণিজ্যেও সম্প্রসারণের ওপর একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়।

রফতানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন পণ্য সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রফতানি পণ্য সংযোজনের জন্য পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। সেসঙ্গে আমাদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। বাজার খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারদের দেশের রফতানি খাতের সম্প্রসারণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যে যেই দেশের অ্যাম্বাসেডর সে দেশে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেই পণ্যের মধ্যে কোন কোনটি আমাদের নিজেদের দেশে উৎপাদন করতে পারি, রফতানি করতে পারি এবং সেই সুযোগটা যাতে সৃষ্টি হয় তার জন্য তারা যথাযথভাবে কাজ করবেন এবং আমাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো সে দেশের মানুষের সামনে যেন তুলে ধরা যায় সে ব্যবস্থাও তারা নেবেন।’

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা যেমন কূটনীতিকদের সহযোগিতা করতে পারেন তেমনি তাদের সহযোগিতাও নিতে পারেন বলেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের রফতানি পণ্যের সম্ভার অতীতের থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের নতুন নতুন অনেক পণ্য এসেছে, যেমন আইসিটি।’ তিনি বলেন, এই তথ্যপ্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের চামড়াসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যালস, আসবাবপত্র, জুয়েলারি প্রভৃতিসহ বিভিন্ন নন-ট্র্যাডিশনাল পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় যেসব দেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যেও এখনো প্রবেশাধিকার ঘটেনি সেসব দেশেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাস রয়েছে উল্লেখ করে তাদের মাধ্যমে সুযোগকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের আমি একটাই অনুরোধ করব, যে শিল্প বা শিল্পাঞ্চল আপনারা গড়ে তুলবেন বা শিল্পোন্নয়ন করবেন পাশাপাশি বজ্যঁ ব্যবস্থাপনার প্রতি আপনাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থপনাটা শুরু থেকেই করতে হবে যেমন, খুব হার্ড কেমিক্যাল ওয়েস্ট অথবা সলিড ওয়েস্ট বা অন্যান্য লিকুইড ওয়েস্টের ব্যবস্থাপনা যদি শুরু থেকেই করেন তাহলে আমাদের পরিবেশ রক্ষায় একটি সহযোগিতা হবে এবং দেশের জন্য, মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে।’

তিনি ব্যবসায়ীদের এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রতিটি শিল্প এলাকায় একটি করে জলাধার রাখার ব্যাপারে নজর দেওয়ার জন্যও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেন বৃষ্টির পানি সেখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়। যতগুলো স্থাপনা হবে সেখানকার বৃষ্টির পানি এখানে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে করে অগ্নিকা-সহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এই পানি ব্যবহার করা যায়। শিল্প এলাকায় একটা জলাধার থাকলে সেখানকার পরিবেশটাও ভালো থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সে স্থানে অধিকহারে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ

Ads
Ads