মাদারীপুরে ব্যবসায়ী সোহেল হত্যা প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান ৩ দিনের রিমান্ডে

  • ২৮-Aug-২০১৯ ০৯:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: মাদারীপুর প্রতিনিধি ::

মাদারীপুরের রাজৈরের আলোচিত ব্যবসায়ী সোহেল হত্যার প্রধান আসামী বাজিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান। বুধবার দুপুরে মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। 

মামলার বিবরণ ও রাজৈর কোর্টোর জিআরও সূত্রে জানা গেছে, জেলার রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদারের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধ জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও তার লোকজন মিলে রাজৈরের মজুমদার বাজারের ব্রিজের কাছে গত ৯ মে সোহেল হাওলাদারকে একা পেয়ে মারাত্মক ভাবে কুপিয়ে জখম করে। পরে সোহেলকে গুরুতর জখম অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তৃব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় সোহেলের পিতা বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বেশ কিছুদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপণে থাকার পর ছয় সপ্তাহের জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় আসেন। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তিনি গত ২৬ আগস্ট সোমবার মাদারীপুরের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজির আহমেদ এর আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরনের আদেশ দেন। বুধবার রাজৈর আদালতের বিচারক মাদারীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান এর আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে রাজৈর আদালতের পরিদর্শক মো. ফরিদ আহমেদ ৫দিনে রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তধীন থাকায় সিআইডি অফিসে চেয়ারম্যানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

রাজৈর আদালতের পরিদর্শক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তধীন থাকায় সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে আমি বিজ্ঞ আদালতে ৫দিনে রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এদিকে সোমবার প্রধান আসামীর সঠিক বিচারের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে নিহত সোহেলের পরিবার। এ হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসী কয়েকবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেও রাখে। 

Ads
Ads