২১তম জাতীয় সম্মেলন: তরুণ নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছে আ.লীগ

  • ২৭-Aug-২০১৯ ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আগামী ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গত ২০তম জাতীয় সম্মেলনেও বেশ কয়েকজন তরুণকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে স্থান দেওয়া হয়। তাদের ‘পারফরমেন্সে’ সন্তুষ্ট দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সঙ্গত কারণেই ২১তম সম্মেলনে দলের তৃণমূলেও তরুণদের স্থান দিতে চান তিনি। তাই দলের সভাপতির নির্দেশে এবার স্থানীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণদের হাতে সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দিতে চান। তবে প্রবীণ ও ত্যাগি নেতাদের কোনোভাবেই অসম্মান বা অমর্যাদা করে নয়। তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা হবে। শুধু তাই নয়, প্রবীণ ও ত্যাগিদের বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি করে সম্মান জানাবে আওয়ামী লীগ। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের পাশাপাশি তারুণ্য নির্ভর নেতৃত্ব আনার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ফলে উজ্জীবিত তারা। এ বিষয়ে কথা হয় ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল ও কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকাশ কুমার ভৌমিক, বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাউল করিম চৌধুরী বাবুলসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে। তারা বলেন, আমরা সব সময় কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থাকি। কেন্দ্র যখন, যে নির্দেশ দেয় আমরা তা পালন করি। দলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন হলেই সব কষ্ট ভুলে যাই।

তারা আরও বলেন, জন্মের পর থেকেই বাপ-চাচাদের দেখে অনুপ্রানিত হয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। এবার দলের ২১তম সম্মেলনে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব তুলে আনা হলে অবশ্যই দল আরো শক্তিশালী ও বেগবান হবে। কারণ দল বা সংগঠনে দক্ষ ও ত্যাগী-পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হলে তা শক্তিশালী হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ‘৭০-এ আওয়ামী লীগ: কী ভাবছে তারুণ্য’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে উঠে এসেছে তৃণমূলের তরুনদের কথা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি নিজে রাজনীতিতে কিভাবে আসলেন তা উল্লেখ করে বলেন, ছোট বেলা থেকে এই দলটিকে দেখে এসেছি। আর বড় হওয়ার পর বিভিন্ন মানুষের কাছে বিরোধী মন্তব্য শোনার পর নিজে যুক্তি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে বাঙালি হিসেবে গর্ব করার জন্য আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, এবার জেলা পর্যায়ে সম্মেলনে অন্তত ৩০-৩৫ টি জেলায় বিভিন্ন পদে তরুণ নেতাদের জায়গা করে দেওয়া হবে। তবে তাদের অবশ্যই রাজনৈতিক ত্যাগ যেমন থাকবে, তেমনি দক্ষতা-মেধাও থাকতে হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য বলেন, দল টানা ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার কারণে প্রায় সারা দেশেই সংগঠন ঝিমিয়ে পড়েছে। ক্ষোভ-বিক্ষোভ, রাগ-অভিমান ও দ্ব›দ্ব-কোন্দল এসবও লেগেই আছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারুণ্য নির্ভর নেতৃত্ব আসলে অনেকাংশে কমে আসবে দ্ব›দ্ব ও কোন্দল। এর মধ্য দিয়ে সংগঠন উজ্জীবিত হবে।

এ বিষয়ে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্নেল (অ.) ফারুক খান বলেন, এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগে তৃণমূলে উল্লেখযোগ্য হারে তরুণ নেতৃত্ব আসবে। তবে যারাই আসুক প্রবীনদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করবে তরুণরা।

Ads
Ads