নানা সমস্যায় জর্জরিত সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন

  • ২৬-Aug-২০১৯ ০১:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: আদমদীঘি প্রতিনিধি ::  

বাংলাদেশে রেলওয়ের একটি ঐতিহ্যময়, প্রাচীন ও বৃহত্তম স্টেশন সান্তাহার জংশন স্টেশন। ১৮৭৮ সালে বৃটিশ আমলে নির্মিত এই জংশন স্টেশনটি শুধু ব্রড গেইজ লাইনে চলাচলের সময় এটি শুধু ’সান্তাহার স্টেশন’ নামে পরিচিত ছিল। অবিভক্ত ভারতের উত্তরবঙ্গ ও আসাম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে সান্তাহার কে সংযুক্ত করে পূর্ব দিকে আরো একটি রেললাইন মিটার গ্রেজ। ১৯০০ ইং সাল নির্মিত হলে সান্তাহার স্টেশন সান্তাহার জংশন স্টেশনে পরিনত হয়।

ত্রিমুখি রেলের সংযোগ স্থল এবং দুই জেলার মোহনায় অবস্থিত এই স্টেশনটির নানা দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং এই স্টেশন থেকে সরকারের আয় উল্লেখ করার মতো। গত জুন ২০১৮ থেকে মে ২০১৯ পর্যন্ত সান্তাহার রেল ষ্টেশন থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭ শত ৫৭ টাকা। এই আয় শুধু আন্তঃনগর ট্রেন থেকে। লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলি বে-সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমান আয় হওয়া সত্বেও জনবল সংকট, স্টেশনের সীমানা প্রাচীর না থাকা, পানির সমস্যা, অবকাঠামো প্রভৃতি সমস্যার কারনে স্টেশনটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

সান্তাহার স্টেশন মাষ্টারের অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য জানা গেছে, এই রেলওয়ে স্টেশনটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন ৩৯ টির মতো আন্তনগর, মেইল, সাধারন ট্রেন চলাচল করে। প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমানে চরম জনবল সংকটে স্টেশনটি। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সহকারী স্টেশন মাষ্টারের পদ ১৩ টি থাকলেও এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। অনেক সময় পোটার দ্বারা এই পদের কাজ সম্পূর্ণ করতে হয় বলে জানা গেছে। জামাদারের পদ আছে ৪টি, কর্মরত ১ জন। পয়েন্টসম্যান পদ সংখ্যা ৯ টি, কর্মরত ৮জন। গেট কিপারের পদ আছে ৬ টি তারমধ্যে একজন স্থায়ী ভাবে বাকীরা চুক্তি ভিত্তিক। স্টেশনটির মোট মঞ্জুরী পদ সংখ্যা ৫৯ টি, বর্তমানে কর্মরত আছে ২৬ জন। ৩৩ টি পদই শূণ্য অবস্থায় আছে। প্রথম শ্রেনী পুরুষ ও মহিলা বিশ্রামাগারের ২ জন আয়া থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দুইটি পদই শূণ্য। এক জন আছে চুক্তি ভিত্তিক। ২য় শ্রেনী বিশ্রামাগারে কোন আয়া নেই। বিশ্রামাগারগুলিতে অধিক সময়ে পানি সরবরাহ থাকে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্রামাগারগুলিতে আসন ব্যবস্থা অপ্রতুল।

স্টেশনটিতে বর্তমানে  যাত্রীদের বসার কিছু আসনের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু নানা অব্যস্থাপনার কারণে যাত্রী সেবা তেমন নেই। সান্তাহার জংসন স্টেশনটিতে পানির সমস্যা প্রকট। দুইটি টিউবয়েলের মধ্যে দুইটিই বর্তমানে নষ্ট। একটি পানির ট্যাপ থাকলেও সেটিও বেশির ভাগ সময়ে নষ্ট থাকে। ফলে যাত্রীদের পানি সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। স্টেশনটিতে এক সময় ’মুসলিম’ ও ’হিন্দু’ নামে দুটি হেটেল থাকলেও বর্তমানে দুটিই বন্ধ। উচ্চ শ্রেনীর ভোজানালয়টি বন্ধ হয়েছে কয়েক বছর আগে। ফলে প্রথম শ্রেনীর এই স্টেশনটিতে যাত্রীদের জন্য কোন খাবারের ব্যবস্থা নেই। ষ্টেশনটিতে প্রয়োজনের তুলনায় ইলেকট্রিক ফ্যানের সংখ্যা কম।

কিছুিদন আগেও  বেশ কিছু ফ্যান দেখা গেলেও অজ্ঞাত কারনে এর সংখ্যা কমে এসেছে। প্রথম শ্রেনীর রেলওয়ে এই স্টেশনটিতে গরু, ছাগলের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কে বা কারা প্রতিদিন গরুগুলিকে স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে যায়। বেশকিছু দিন থেকে স্টেশনটিতে মোবাইল চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টেশনটিতে অবৈধ পান, সিগারেটের দোকানের ছড়াছড়ি। স্টেশনটির প্লাটফর্ম নানা খনা খন্দে ভড়া। বিশেষ করে রেলওয়ে থানার সামনে থেকে শুরু করে নানা জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। স্টেশনটির কোন সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিনা টিকিটের যাত্রীদের সনাক্ত করা যায়না এবং স্টেশনে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ে, ছিনতাইকারীরাও ঢুকে পড়ে। রেলওয়ে থানার কাছ থেকে সান্তাহারের প্রধান সড়ক পর্যন্ত সরু রাস্তাটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। বৃষ্টি হলে যাত্রীরা এ পথে হাটতে পারে না। আবার এই পথে দিনে-রাতে ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল, চিঠিপত্র আসে। কাঁচা এই সড়কটিতে তেমন আলোর কোন ব্যবস্থা নেই। 

এ ব্যাপারে সান্তাহার স্টেশন মাষ্টার রেজাউল করিম বলেন, বাউন্ডারি ওয়াল বা সীমানা প্রাচীর না থাকায় এই স্টেশনটি কাঙ্খিত আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জনবল সংকট থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্বেও কাঙ্খিত সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না।

Ads
Ads