এসপি হারুনের হস্তক্ষেপে ‘রেইনবো ডাইং’ ফেরত পেলো মৃত সালামের সন্তানেরা

  • ২২-Aug-২০১৯ ০১:০৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আবারো বাংলার সিংহাম বলে পরিচিত নারায়নগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের হস্তক্ষেপে বেদখল হয়ে থাকা মৃত এমএ সালামের মালিকানাধীন রেইনবো ডাইং এর ৯ বিঘা সম্পদ ৮ বছর পর ফিরে পেল তার সন্তানেরা। পেছনে ফিরে দেখা যাক, কিভাবে বেদখল হয়ে গিয়েছিল সেই বিপুল পরিমান সম্পদ।

সূত্র মতে, ৩৪ নং উত্তর চাষাড়ার বাসিন্দা এম এ সালাম সদর উপজেলার কাঠপট্টি গুদারাঘাট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন রেইনবো ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমেটেড। মিলটি চালু অবস্থায় তিনি ২০০৪ সালে মারা যান। পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক ঋনের কারণে মিলটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছিলো না এমএ সালামের পুত্র শওকত সালাম এবং সামিয়া সালামের পক্ষে। ফলে ব্যাঙ্ক লোনও পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাক্টরীটি বিক্রির উদ্যোগ নেন শওকত ও সামিনা।

সামিনা গনমাধ্যমকে জানান, ২০১১ সালে জনৈক জসিম নামে এক ব্যক্তির সাথে বায়নাপত্রে চুক্তি করেন তারা। কথা ছিলো তারা ব্যাঙ্কের লোন পরিশোধ করে জমির বাকী টাকা তাদেরকে বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু সে আর তারা করছিলেন না। উল্টো মিলটির সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে পুরো মিলটিই দখলে নিয়ে নেন।

সামিনার দাবি, তারা যখন দখলবাজদের কাছ থেকে মিলটি ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছিলেন তখন জসিমের পক্ষে এসে দাঁড়ান মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু। মূলত তিনিই গত আট বছর ধরে নানা ধরণের টালবাহানা করছিলেন। এরমধ্যে মিলের যন্ত্রপাতি বিক্রি করে তারা ২ কোটি টাকাও আত্মসাৎ করেন। জসিমের সাথে আরও রয়েছেন হাশেম নামে এক ব্যক্তি। তিনি এই ফ্যাক্টরীটিতেই কাজ করতেন।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পত্তিতে আমরা কেউ যেতে পারছিলাম না। যতবারই আমরা আমাদের সম্পত্তি ফিরে পেতে চাইলাম ততবারই আমাদেরকে নানা ভাবে থামিয়ে দিলেন সাজনু। তিনি আমাদের ধৈর্য্য ধরতে বলেন। এমন আরও নানা কথা বলে আট বছর তিনি কালক্ষেপন করেন। এরমধ্যে জসিম নামে ওই ব্যক্তিকে দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আমাদের আরও কিছু জমি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেন হাশেম।

সামিনা বলেন, জালিয়াতি করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলায় জসিমের নামে ওয়ারেন্টও ইস্যু হয়। তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে যখন জমিটি উদ্ধার করতে পারছিলাম না তখন পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিই। তিনি কাগজপত্র সব দেখে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর এনামুলকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে বুধবার তারা দখলবাজদের কাছ থেকে আমাদের সম্পত্তি উদ্ধার করে আমাদেরকে বুঝিয়ে দেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সামিনা আরও বলেন, জসিম বিভিন্ন জায়গায় ছড়াচ্ছেন তিনি আমাদেরকে দুই কোটি টাকা দিয়েছেন এবং ব্যাঙ্কেও দুই কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি ব্যাঙ্কে কোনো টাকা দেননি। দিয়ে থাকলে সে প্রমাণপত্র তিনি দেখাক। তাছাড়া আমাদেরকে সে দুই কোটি টাকা দেয়নি। প্রথমে ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে ৫ বছরে আরও ৮০ লাখ টাকা দিয়েছে। আমরা এই টাকাটাও তাকে ফেরৎ দিতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তিনি কোনো কিছুই করতে রাজি ছিলেন না। শুধু শুধু কালক্ষেপন করছিলেন সাজনুর মাধ্যমে। সাজনুই ছিলেন এর নেপথ্যে।

জানা গেছে, ২০১১ সালে দখল হয়ে যাওয়া এই ফ্যাক্টরির মূল জমির পরিমাণ ছিলো ৯ বিঘা। গত আট বছর ধরে নানা ভাবেই সামিনা ও তার ভাই শওকত সালাম চেষ্টা করছিলেন দখলদারদের কাছ থেকে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করতে। কিন্তু দখলদাররা ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ার কারণে সেটি তারা কোনো ভাবেই উদ্ধার করতে পারছিলেন। শেষতক কোনো উপায়ন্ত না পেয়ে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জমির প্রকৃত ওয়ারিশ শওকাত সালাম ও তার বোন সামিনা সালাম। এসপি তাদের কাছ থেকে বৈধ কাগজপত্র এবং এই জমির প্রকৃত ওয়ারিশ তারা, সে পক্ষে প্রমাণপত্র চান। সে মোতাবেক যাবতীয় দলিল, প্রমাণপত্র এবং দখল করে নেওয়ার দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন তারা। এর প্রেক্ষিতে বুধবার (২১ আগস্ট) রেইবো ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ফ্যাক্টরীটি পুরো জমিসহ দখলমুক্ত করে দেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।

এ প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে আমার বৈধ দখলকৃত জমিতে প্রবেশ করে আমার লোকজনদের মারধর করে বের করে দিয়েছেন। আমি এ ব্যাপারে লিগ্যাল অ্যাকশনে যাবো। উকিলের সাথে কথা বলে বাকী ব্যবস্থা নেব।

জসিম দাবি করেন, ২০১০ সালে আমি দুই কোটি টাকা দিয়ে তাদের সাথে বায়না করেছি। পরে তারা আমাকে পাওয়ারনামা দিয়েছেন। ব্যাঙ্কেও দুই কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন জমির দাম বেড়ে যাওয়াতে তাদের লোভ হয়েছে। ফলে তারা এটি আবারও দখল নিতে চাচ্ছে। 

মামলার ওয়ারেন্ট ইস্যু সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি মামলা তারা করেছিলেন। সে মামলায় ওয়ারেন্ট হয়েছিলো। আমি সে মামলায় জামিন পেয়েছি। তাছাড়া তারা ২০১৮ সালে একবার পুলিশের মাধ্যমে জমি দখল নিয়েছিলো। পরে কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সমস্ত প্রমাণ আমার কাছে আছে।

এ ঘটনার সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন অভিযোগ দাবী করে মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলেন, জসিম আমার ফ্রেন্ড। সে ২ কোটি টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি পাওয়ার নিয়েছিলো। তবে সামিনাদের চাচা মামলা করাতে সে ওখানে যেতে পারেনি।

তিনি আরো দাবী করেন, জসিমের নামে কোনো ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়নি। হয়ে থাকলে জামিনে আছে।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার(ডিবি) ইন্সপেক্টর এনামুল হক গনমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সুপারের আদেশক্রমে এই বিষয়টি নিয়ে আমরা যাচাই বাছাই করে প্রকৃত জমি ও ডাইংয়ের মালিক পক্ষের হাতে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়েছি । মূলত জসিম ও হাসেম চক্রটি রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন অপকর্ম করে আসছিলো। যা আজ অবসান হলো

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং ডিআইও-টু সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে যত বড় ভাইয়ের লোক হোক অপরাধ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Ads
Ads