টোকাই থেকে মাদক সম্রাট দিনাজপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি রজ্জব!

  • ২১-Aug-২০১৯ ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

:: উৎপল দাস ::

নাম তার আবু ইবেন রজ্জব। দিনাজপুর শহরের মাদক সম্রাট হিসাবেই বেশি পরিচিত হলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা কমিটির সভাপতি। দিনাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত বাহাদুর বাজারের একসময়ের ফেরি করে পান বিক্রি করতেন তার পিতা মনু মিয়া। এরপর দিনাজপুর স্টেশনে টোকাই হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন এই আবু ইবনে রজ্জব। ধীরে ধীরে তিনি মাদকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন, পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তার, ডিশের তার চুরি করতে শুরু করেন। এভাবেই চলছিল ২০০৬ সাল পর্যন্ত। জামায়াত-বিএমপির আমালে বেপোরোয়াভাবে চুরি করেছেন শহর জুড়ে। দিনাজপুরের স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে ভোরের পাতা এসব বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজ্জবের নানা কেলেংকারি, মাদক ব্যবসা, পুলিশের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও আবাসিক হোটেলে অনৈতিক ব্যবসা, হত্যা মামলা থেকে শুরু করে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। 

সূত্র আরো জানিয়েছে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হওয়ার আগে তিনি ছিচকে চোর হিসাবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার দলীয় লোকজনের সঙ্গে স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মেলামেশা শুরু করেন। সুচতুর এই আবু ইবনে রজ্জব দিনাজপুর সদরের বর্তমান সংসদ সদস্যের আস্থা অর্জন করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হয়েছেন। যদিও তার নানা কেলেংকারির কারণে বিরক্ত দিনাজপুর সদরের এমপি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবু ইবনে রজ্জব স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দিনাজপুর সদরে মাদকের একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে। মরণনেশা ইয়াবা ও ফেনসিবিল ছাড়া তার দিনই শুরু হয়না বলে নিশ্চিত করেছেন রজ্জবের ঘনিষ্ঠ একজন। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের পাতাকে বলেন, আমরা অনেকেই আছি যারা মুখ খুলতে পারি না ভয়ে। কারণ আবু ইবনে রজ্জবের সঙ্গে চলতে চলতে আমাদেরও নেশার রাজ্যে প্রবেশ করিয়ে রাস্তার ফকির বানিয়েছে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে রজ্জব নিজেও মাদকাসক্ত বলে আমাদের কয়েকজনের জীবনাই নষ্ট করে দিয়েছে। এখন পুরো দিনাজপুরের অলিখিত মাদক সম্রাটের মুকুট রজ্জব পেয়ে গেছেন। দিনাজপুর সদরের বাইরে থেকে ছেলেপুলে এনে প্রতিদিনই বাহাদুর বাজারে ইয়াবা-ফেনসিডিল বিক্রি করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে রজ্জবের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু যাকে সাথে নিয়েই নানা অপকর্ম করে থাকেন। 

দিনাজপুরের সচেতন অভিভাবকরা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, তরুণ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদকের বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। সীমান্ত দিয়ে মাদক এনে খুব সহজেই পুরো শহরে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই আবু ইবনে রজ্জব। এমনকি শহরের রেহেনা আবাসিক হোটেলে বসে নিজে ও প্রশাসনের বিশেষ করে থানার পুলিশের বিভন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে বসে মাদক সেবন থেকে শুরু করে মেয়েদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করাচ্ছেন। 
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, আবু ইবনে রজ্জব নিজেই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন। ২০০৫ সালের দিকে তিনি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকার পর কিছুদিন ভালো থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দিনাজপুর শহরের অলিতে গলিতে মাদকের কড়াল ছোয়া পৌঁছে দিয়ে অবৈধ টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। 

এসব মাদক ব্যবসার বিষয়ে সব কিছু জানার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ছিচকে চোর ও পকেটমার থেকে দিনাজপুরের মাদক সম্রাট আবু ইবনে রজ্জবের ব্যবহৃত গ্রামীণ ফোন নম্বরে বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা ১৪ মিনিটে ২ বার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। এরপর ৬.১৭ মিনিটে তাকে নিউজের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে একটি  ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও সেটির কোনো প্রতিউত্তর করেননি। 

আগামী পর্বে: আবাসিক হোটেলে রমরমা অনৈতিক ব্যবসা ও সেই ১ হাজার বোতল ফেনসিডিলের মূল হোতা রজ্জব!

Ads
Ads