সম্পর্কের অবনতি নয়, কাশ্মীরে শান্তি চাই

  • ৮-Aug-২০১৯ ০৯:৫১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

হঠাৎ করেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে চরম উষ্ণতা বেড়েছে। ভারত তার সংবিধান থেকে গত ৫ আগস্ট বিশেষ অর্ডিন্যান্স জারি করে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। তার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার অজয় বিসারিয়াকে বুধবারই বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। এ ছাড়া ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকেও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। এমন এক পরিস্থিতি বিশ্ববাসী আশা করেনি। যদিও বহুদিন থেকেই চলছিল টানাপড়েন। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে যদ্রি কূটনৈতিক যোগাযোগের স্বাভাবিক চ্যানেল বজায় রাখার স্বার্থে পাকিস্তানকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করেছে। আবার ওই বিৃবতিতে ‘দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে বিশ্বের কাছে একটি ভীতিকর চিত্র তুলে ধরতেই পাকিস্তান ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে’ বলে মন্তব্যও করেছে। তবে যা-ই হোক, কাশ্মীর প্রসঙ্গে আমরা আশা করি শান্তিপূর্ণ সমাধান। একটি দেশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রেক্ষিতে আরেকটি দেশ শত্রুতা তৈরির উসকানি সৃষ্টি করবে এটা আমাদের কাম্য নয়। 

গত মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের সরকার। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও জাতিভেদে নিন্দা ও সমর্থনও জানানো হয়েছে। কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বিরোধিতা করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলে যখন এত শোরগোল তখন পাকিস্তানের নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত অনেকটাই বেমামান। 

বিশ্বমহলে জাতিসংঘ আছে। আছে আন্তর্জাতিক আরও অনেক সংস্থা। বৈরী অবস্থা তৈরির আশঙ্কা দূরীকরণ কিংবা অন্য কোনো সম্ভাবনা তৈরির জন্য সেখানে যেতে পারত পাকিস্তান। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসা বন্ধসহ ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার, নিজেদের হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার এগুলো খুব বুদ্ধিদীপ্ত কাজ বলে এই যুগে আমরা মনে করি না। যদিও ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর এনএসসির বৈঠকে পর্যালোচনা হয়ে এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান বলে আমরা জেনেছি। তাহলে কি তাদের এনএসসির বুদ্ধিদীপ্ততা কমেছে? নাকি চলছে অন্য কোনো ভাবনা?

ইতিহাস বলছে, সংবিধান প্রণয়নের সময় হিন্দু মহাসভার সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ৩৭০ ধারার বিরোধিতা করেছিলেন। তখন ৩৭০ ধারায় কাশ্মিরে কোনো ভারতীয় প্রবেশ করতে হলে পারমিট ভিসার প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ ছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে লোকসভার সদস্য মাওলানা হাসরাত মোহানীর সংশোধনী প্রস্তাবের কারণে পারমিট প্রথা বাতিল হয়েছিল। সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কাশ্মীরে তার সমর্থক কিছু লোক নিয়ে ৩৭০ ধারার বিলুপ্তির দাবিতে পদযাত্রা করেছিলেন। ঝিলাম অতিক্রম করার পর যখন শ্যামাপ্রসাদ কাশ্মীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন তখন শেখ আবদুল্লাহর সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল।

একটা ডাকবাংলোতে তাকে অন্তরীণ করে রেখেছিল। অন্তরীণ অবস্থায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মৃত্যু হয়। এদিকে পাকিস্তানের ধারণা, ৩৭০ ধারার বিরুদ্ধে থেকে বিজেপি তাদের পিতামহ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আত্মত্যাগ সম্পর্কে কখনো বিস্মৃত হয়নি। বিজেপি মনে করে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে শেখ আবদুল্লাহ সরকার হত্যা করেছিল। সুতরাং বিজেপি তাদের পিতামহের এ দাবি পূরণের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। সোমবার ৫ আগস্ট ২০১৯ তারা তাই করেছে।

আমরা চাই বিশ্বশান্তি বজায় থাকুক। দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা দূর হোক। কাশ্মীর প্রসঙ্গে আর যেন কারও প্রাণ না দিতে হয়। মানুষ মানুষের জন্য এই কথাটি দুই দেশের রাজনীতিকরাই উপলব্ধিতে আনুন। 

Ads
Ads