কালীগঞ্জ পৌরসভার ফটকে তালা, দাবি আদায়ের আন্দোলনে কর্মকর্তারা ঢাকায়! 

  • ১৭-Jul-২০১৯ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
Ads

:: কালীগঞ্জ প্রতিনিধি ::

গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার মূল ফটকে ঝুলছে তালা। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি আদায়ের অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ব্যানারে বড়বড় করে লেখা পৌরসভার সকল নাগরিক সেবা দিতে না পারার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

তাদের দাবি বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ অন্যান্য সকল সুবিধা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদান করতে হবে। আর পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি আদায়ের এ আন্দোলনে স্থানীয় পৌর সেবা প্রত্যাশিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। এ সময় পৌরসভায় সেবা নিতে আসা জনসাধারণ পৌর ফটকে তালা দেখে ফিরে যাচ্ছে। এতে করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজে সমস্যা হচ্ছে। 

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে কালীগঞ্জ পৌর সভার সামনে গিয়েও দেখা গেছে পৌর ফটকে তালা ঝুলছে ও ব্যানার সাটানো। তাতে বড় করে লেখা দাবি আদায়ের আন্দোলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। পৌরসভার সকল নাগরিক সেবা দিতে না পারার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
 
পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম পৌরসভার ফটকে দাঁড়িয়ে প্রতিবেকদকে বলেন, ছেলের জন্ম নিবন্ধনের জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি পৌরসভার মূল ফটকে তালা ঝুলছে। বছরে বছরে পৌরসভাকে টেক্স দিয়ে থাকি। কিন্তু তারপরও সেবার জন্য আসলে আমরা সাধারণ মানুষ তাদের আন্দোলনের কারণে কেন সেবা না নিয়ে ফিরে যাব? 

এ সময় পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানান ভূক্তভোগী আরও কয়েকজন সেবা প্রত্যাশি। এদিকে আন্দোলনের কারণে পৌরসভায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাস্তা ও ড্রেন পরিস্কার না করায় পৌরবাসীকে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। ময়লা আবর্জনার ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সন্ধ্যার পর সড়ক বাতিও বন্ধ রাখছেন আন্দোলনকারীরা, ফলে পৌর শহরের পথঘাট অন্ধকারে থাকছে। এতে পথচারীরা পথ চলতে কষ্টের মধ্যে পড়ছেন। 

এ ব্যাপারে পৌর সচিব মো. মিলন মিয়া ও বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক দুলাল মোড়ল মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে জানান, পৌরবাসীদের সেবা তারাও করতে চান। তবে তাদের দাবি আদায় হলেই কেবল তারা কাজে যোগ দিবেন। দাবি আদায় না হলে তাদের এ আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে বলেও জানান তারা। 

কালীগঞ্জ পৌর মেয়র মো. লুৎফুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তার কিছু বলার বা করার নেই। এটা সরকারের এবং পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী এসোসিয়েশনের বিষয়। স্থানীয়রা সেবা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছে এটা দেখে একজন জনপ্রতিনিধি মেয়র হিসেবে খুব খারাপ লাগছে। তবে খুব দ্রæত এ আন্দোলনের অবসান হবে বলে তিনি আশা করেন।

Ads
Ads