শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পেছনে ষড়যন্ত্র আজ প্রমাণিত: মাহবুব-উল আলম হানিফ

  • ১৭-Jul-২০১৯ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, এ দিবসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মিথ্যা অভিযোগে কারাবন্দী করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের এই দিনে যে মাইনাস-টু ফর্মূলার আয়োজন করা হয়েছিল- তা ঠিক নয়। সেদিন মূলত শেখ হাসিনাকেই মাইনাস করার প্রক্রিয়ায় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল ষড়যন্ত্রকারীরা।

বুধবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে আয়োজিত শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে দেশের গ্যাস রপ্তানি নিয়ে বিদেশি কোম্পানীগুলোর সঙ্গে যে দর কষাকষি হয়েছিল, সেটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাদের প্রভূভক্ত দেশগুলোকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চেয়েছিল। দেশের গ্যাস তারা বাইরেও রপ্তানি করতে চেয়েছিল কিন্তু তাতে বাধা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৎকালীন সময়ে তিনি বলেছিলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা মিটিয়ে যা অবশিষ্ট থাকবে তার থেকেই রপ্তানি করা হবে অন্যথায় গ্যাস রপ্তানি করা ঠিক হবে না। মূলত গ্যাস রপ্তানিতে বাধা দেওয়ায় বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সাথে সখ্য গড়ে ওঠা বিদেশি কোম্পানীগুলো তখন থেকেই একে অপরের সঙ্গে তথা বিদেশিদের সঙ্গে আঁতাত করে শেখ হাসিনা মোটকথা আওয়ামী লীগকেই ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তার আগেও তারা আমাদের পক্ষে ছিল না। তারা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করতো। তারা কখনোই জনগণের দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় চায়নি। তাই বিভিন্নভাবে শেখ হাসিনাকে এবং বর্তমান শক্তিশালী দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যে ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে।

ড. ইউনূসের বিষয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, তিনি শান্তির জন্য দেশে কোনো কাজ না করেও শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন। তবে তার এ নোবেল প্রাপ্তি ঠিক কোন শান্তির জন্য তা কারোই জানা নেই। তিনি দেশের শান্তির জন্য কি করেছেন প্রশ্ন রেখে হানিফ বলেন, ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে যতটা না দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন বলে দাবি করছেন তিনি তার চেয়েও বেশি ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে দরিদ্রদের করছেন আরও অধিক অসহায়। কার্যত তিনি দল গঠনের জন্যই এ নোবেলকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাও পারেননি। যদিও তার দল গঠনের আয়োজনে তার ভাই ছাড়া আর কেউই তার সঙ্গ দেয়নি।

শেখ হাসিনার বন্দীদশা থেকে মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, খোদ রাজধানী তথা দেশব্যাপী দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য সৃষ্ট আন্দোলনের তোপেই শেখ হাসিনাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল তারা। এসময় তিনি তৎকালীন আন্দোলনে জুলুমবাজদের আঘাত ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ বিভিন্ন নারী নেতৃবৃন্দের নাম উল্লেখ করে আলোচনা করেন।

আলোচনায় তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে বিএনপি একদিকে হাওয়া ভবন গড়ে তুলে দেশের অর্থ লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যায় বিএনপি। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই সেসময় নিয়ে আসলেন সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার। যা ছিল- তাদের সম্পূর্ণ সাজানো এবং তারাই ফখরুদ্দিনকে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই মিথ্যা অভিযোগে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে।

কিন্তু টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশকে উন্নতির দ্বারপ্রান্তে নেওয়ায় এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে দাঁড় করাতে সক্ষম হওয়ায় তৎকালীন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার পেছনে যে ষড়যন্ত্র লুকায়িত ছিল তা আজ প্রমাণিত। যারা এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত এবং এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে বের করে এনে বিচারের মুখোমুখী করারও জোর দাবি জানান তিনি। 

হানিফ বলেন, এখনো বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। তাই সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই এক থাকলে আর কোনো দিন তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাবে বলে যে স্বপ্ন দেখছে তা আজ শুধুই দূঃস্বপ্ন। এ দূঃস্বপ্ন দেখেই আন্দোলন করে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে বলে বলছেন তারা। অথচ তারা এটা জানেন না- একমাত্র আইনি উপায় আর রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমেই মুক্ত করা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই তাদের। এ দুই উপায়েই কেবল খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারে। বাকি সবই দূঃস্বপ্ন।

সবশেষে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের যে হুমকি তারা দিচ্ছেন তা দিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ আওয়ামী লীগ কারো হুমকিকে ভয় পায় না। বরং বিএনপিকে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। 

সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শেখ হাসিনার কারাবন্দী থাকাকালীন দুঃসময়ের বিভিন্ন স্মৃতি উল্লেখ করে আলোচনা করেন। আলোচনায় তিনি বলেন, বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে হতাশায় ডুবে যাওয়া একটি জাতিকে উন্নয়নের শিখরেই নয় শুধু মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জাতির ইতিহাসে লিখা থাকবে শেখ হাসিনার নাম।

এছাড়া তিনি দেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রোজ ছোটো ছোটো কাজের মধ্য দিয়ে সবার সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা এ দেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমরা সবাই যদি স্বইছায় দুর্নীতি কিংবা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকি, তাহলেই এদেশকে আমরা ভালো রাখতে পারবো। সবাইকে দুর্নীতি থেকে দূরে থেকে ভালো কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আলোচনা শেষ করেন তিনি।

এরআগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কারাবন্দী ছিলেন সেসময় দলের অনেক সিনিয়র নেতারা পাশে ছিলেন না। তৃণমূলের অনেকেই ছিলেন। সিনিয়র আইনজীবিরাও ছিলেন না। সম্পদ রক্ষার বয়ে এবং কারাগারে যাওয়ার ভয়েই সেসময় তারা পাশে ছিলেন না। তবু কারাগারে থেকেও থেমে থাকেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জেলে থেকেই দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া করছেন তার উল্টো। তিনি জেলে থেকে আন্দোলনের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তার মুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছেন, তারাই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। তারাই আবার শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা করেছে। শুধু তাই নয়- ১৯ বার শেখ হাসিনার ওপর হামলা করেছে তারা।

বিএনপির বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন,তাদের প্রতি এখন আর মানুষের সহানুভূতি নেই। তাদের আন্দোলন করার ক্ষমতা নাই, সাংগঠনিক কাঠামো নাই। তবে তাদের শেখ হাসিনা এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রও থেমে নেই। যে কারণে এখনো নিরাপদ নয় শেখ হাসিনা। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। শেখ হাসিনা বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আমরা বাঁচবো। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, তৎকালীন সময়ে শেখ হাসিনাকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করা হয়েছিল। কিন্তু তীব্র আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সে সময় মুক্তি দিতেও বাধ্য হয়েছিল তারা। 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-২ আসনের এমপি নুরুল আমিন রুহুল তৎকালীন সময়ে কারাবন্দী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে সৃষ্ট আন্দোলনে স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্যে রাখেন।

তিনি তার বক্তব্যে তারেক জিয়াকে কুপূত্র উল্লেখ করে বলেন, মা জেলে বন্দী অথচ খালেদা জিয়ার এ কুসন্তান লন্ডনে বসেই আরাম আয়েশ করছে। আমরা এ ও শুনেছি তিনি তার মাকে বলেছেন- মা তুমি ঝুলে পড়ো আমি আছি। তার এ বক্তব্যেই প্রকাশ পায় তারেক জিয়া সন্তান হিসেবে কেমন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত থেকে শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবসের বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ আওয়মী লীগের উপদেষ্টা ড. খন্দকার বজলুল হক, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ও স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সানিয়া বিনতে মাহতাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সাবেক ডিন আ ব ম ফারুক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী, সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক, শাবান মাহমুদ ও সোহেল হায়দার চৌধুরী।

Ads
Ads