শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের কখনও ক্ষমা করব না: প্রধানমন্ত্রী

  • ১২-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালকদের ক্ষমা করা যায় না। আমরা তাদের কখনও ক্ষমা করব না। তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ (এসআরসিসি) প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ড্রাইভারগুলো ভালোভাবে ট্রেইনিং করে না। হেলপারদের হাতে গাড়ি দিয়ে দেয়। তারপরও আমাদের নানা পদক্ষেপের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।

ওই দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে তাদের দাবি-দাওয়া সরকার মেনে নেয়। সে বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে যখন দেখলাম স্কুলের ইউনিফর্ম বানিয়ে অনেকে ঢুকে পড়ছে, বুঝলাম তৃতীয় পক্ষ, যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এটা দেখার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলি। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, তারা সময়মতো ঘরে ফিরে গেছে।

শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশিক্ষিত জাতি ছাড়া দেশ উন্নতি করতে পারে না। এ জন্য আমরা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। একটি ছেলেমেয়েও যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে সেদিকে নজর দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ছাড়াও আমরা চিকিৎসাকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা সবসময় চাই দেশটিকে এগিয়ে নিতে।

পথচারীদেরও রাস্তায় চলাফেরায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতদিন আমাদের শিশুরা রাস্তায় ছিল অনেকে আইন-কানুন মেনেছে। আমাদের মন্ত্রীদেরও গাড়ি থেকে নামতে বলেছে, তখন ফোন এসেছিল- কী করবো। বলেছি ওরা যা বলে শোনেন। কিন্তু এখন আবার দেখি পাশে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও রাস্তায় নেমে হাত দেখিয়ে দেখিয়ে পারাপার হয়, যততত্র গাড়ি থামিয়ে ওঠেন যাত্রীরা। এটা মোটেই ঠিক নয়। পথচারীদের আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

 

‘যখন আমাদের (ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়) অফিস আক্রান্ত হলো, তখন সেখান থেকে ফোন আসছিল, বলা হচ্ছিলো- আমরা তো টিকতে পারছি না, শুধু পাথর ছোড়া হচ্ছে। তখন বলেছি শুধু ধৈর্য ধরতে। কারা করলো এটা? সেসময় গুজব ছড়ানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন দর্জি দোকানে ইউনিফর্ম বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে, এসব কারা করেছে?’

গাড়িচালকদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে বাস থামানো যাবে না, নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি থামতে হবে। লেন মেনে চলতে হবে। ওভারটেকিং বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্যামেরা ফিট করে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। আইন না মানলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে যেখানে হাসপাতাল-স্কুল-কলেজ আছে, সেখানে আন্ডারপাস, ফুটওভার ব্রিজ করে দিতে হবে। স্কুল-কলেজগুলো ছুটির সময় একজন ট্রাফিক পুলিশ সেখানে থাকতে হবে তাদের নিরাপদ পারাপারের জন্য।

নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জন ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। এমনকি বাসেও বিন থাকতে হবে। 

গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনেকে গুজব ছড়িয়েছে। দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। বিভিন্ন সময়ে যাদের পুরস্কৃত করেছি, সেই বয়স্কদেরও দেখলাম এ ধরনের গুজব ছড়াতে। এসব তো মানা যায় না।

 

অনলাইন/কে 

Ads
Ads