গুজবে কান দেবেন না, মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না: প্রধানমন্ত্রী

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গুজবে কান দেবেন না, মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।

রোববার (০৫ আগস্ট) সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন নিয়ে অনেকেই গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। পলাশি থেকে আইডিকার্ড তেরি করা হচ্ছে। কখনও মুখে কাপড় বেধে অন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেওয়া হচ্ছে। কখনও হেলমেট পরা হচ্ছে।  অনেকে ব্যাগের ভেতর পাথর রাখছে। ছাত্রদের ব্যাগে বই না থেকে পাথর থাকবে কেন? বিডিআর গেটে হামলা হয়েছে। গুলি করলো কারা? শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলা হয়েছে বলে গুজব সৃষ্টি করা হয়েছে। মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় দিয়া ও রাজীবের নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহপাঠী নিহতের ঘটনার শিশুরা রাস্তায় নেমেছে, তাদের সেন্টিমেন্টের জায়গাটা আমরা বুঝি। বিশেষ করে স্বজন হারানোর কষ্ট যে কতটা, সেটা আমি নিজেও বুঝি। তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে এ আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ করেছে। তারা ফেসবুকে নানা বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ আন্দোলন নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপপ্রচার না করে তা গঠনমূলক কাজে ও শিক্ষাগ্রহণের কাজে ব্যবহার করুন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ করেছে 

গতকাল জিগাতলায় হামলার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয়েছে যে আওয়ামী লীগ অফিসে শিক্ষার্থীদের মেরে লাশ রাখা হয়েছে। এ বিভ্রান্তি দূর করার জন্য ছাত্রদের নিয়ে গিয়ে অফিসের ভেতর দেখানো হয়েছে।

বিএনপি-জামায়তাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা শ্রেণি আছে তাদের কাজই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। তারা ফেসবুকে গুজব ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করলো। ২০১৫ সালে অনিক ও হৃদয় নামে দুজন শিক্ষার্থী তাদের বোমায় আহত হয়। তাদেরকে বিদেশে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। ইডেন কলেজের এক ছাত্রী তাদের বোমায় আহত হয়। চট্টগ্রামে এক ছোট্ট শিশু অগ্নি সন্ত্রাসে আহত হয়। তারা পেট্রোল বোমা মারে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন শুরু হয়েছে। তবে ট্রাফিক রুলের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র রাস্তা পার না হয়ে নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। স্কুল-কলেজের সামনে ট্রাফিক পুলিশ থাকবে যারা রাস্তা পারাপারে সহায়তা করবেন। সবাইকে ট্রাফিক আইন শিখতে হবে। 

অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সন্তানদের ঘরে রাখেন। যে কোনও অঘটন ঘটলে তাদের দায়-দায়িত্ব কে নেমে? শিক্ষকদের বলছি, আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনেন। তাদের দায়িত্ব পড়াশোনা করা। তারা যেন সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে ।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি । আগামী দিনে তোমরা আসবে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তোমাদের ওপর পড়বে। শিক্ষা ছাড়া কোনও জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।

রাস্তায় চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল থেকেই ট্রাফিক রুল শেখাতে হবে। স্কুলের সামনেই ট্রাফিক থাকবে, জেব্রা ক্রসিং থাকবে, যেখানে আন্ডার পাস প্রয়োজন তার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা যতদূর সম্ভব রোধ করতে হবে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন প্রত্যেকটা মানুষের হাতে আমরা পৌঁছে দিয়েছি। আজকে হাতে হাতে মানুষের মোবাইল ফোন। সব ধরনের ইন্টারনেট আমরা দিয়ে দিচ্ছি। ঘরে বসে আজকে ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তার স্মৃতিচারণ করেন।

/ই

Ads
Ads