details_12017 ভোরের পাতা

করঞ্জবাবু

  • ১২-Jun-২০১৯ ০৬:৫০ অপরাহ্ন
Ads

:: ফারহানা লিজা ::

মনে পড়ে করঞ্জবাবু?
সেই যে রাইতে তুমি অামারে ছাইড়া চইলা গেলা, সেই রাইতের কথা, তোমার মনে আছে করঞ্জবাবু?
তোমার দুইখান পা ধইরা কি আকুল কাইন্দা তোমারে থাকতে কইছিলাম, তোমারে জড়াইতে চাইছিলাম গতরে। 
তুমি হাতের ঝটকায় আমারে ছিটকায়ে ফেলাইলা। পিছনে আর একবারও না চাইয়া সেই যে গেলা করঞ্জবাবু আর ফিরলানা। 
সেদিন একবার পিছনে চাইলে তুমি দেখতে পারতা, আমার ডাগর চোখ শঙ্খনদী হইয়া গেছিলো। 

আমি রোজ সকালে গোঁসাইপাড়ার দক্ষিনের রাস্তায় চাইয়া থাকি, তুমি ফিরোনা। 
তুমি যেখানে গেছো সেখানে কে তোমারে গরম ভাত রাইন্দা দেয়? আঁচল পাইতা বসতে দেয়, শীতের রাইতে তোমার গতরের গরমে বইসা কে তোমারে দুয়োরাণীর কিচ্ছা কয়? 

তোমার মনে পড়ে করঞ্জবাবু সেবারের এক শীতে তুমি কানাই মাঝির নাও ভাড়া কইরা আমারে নিয়া বাইর হইলা। অমন শীতের রাইতে বড়গাঙ্গের মাঝে নাও ভাসাইয়া আমারে তোমার সে কি আদর! 
রাত্রির দুইপ্রহরে তুমি ঘুমাইয়া গেলা, করঞ্জবাবু তুমি জানোনা, সারাটারাইত আমি তোমার মুখের দিকে তাকায়ে ভাবছি আমার কপালে এতো সুখ সইবে ক্যামনে? আমার মতো কুরূপা মাইয়ামানুষ কোন ভাগ্যের জোরে তোমার চরনদাসী হইছিলো? 

ঈশ্বর মনের কথা বুঝেন! 
তুমি আমারে রাইখা চইলা গেলা। করঞ্জবাবু আমি এহন রাইতে ঘুমাইতে পারিনা। আমার বুকের মধ্যে কি জানি দলা বাইন্দা আছে। রাইত-বিরাতে আমার এহন শ্বাস উঠে। তোমার একটাবার দেখতে মনচায়।  
একটাবার তোমার পাশে বইসা তোমারে ধোঁয়া উঠা গরম ভাত আর বাইন মাছের মাখো মাখো তরকারি খাওয়াইতে মন চায়। 
 
তোমার সেই ছেড়া একপাটি পাম্পসু বুকে জড়াইয়া আমি পোড়াভিটায় গুঁটিসুটি মাইরা একলা থাকি। কুঁপির সলতে পড়ে যায়। 
আমার বড্ড ভয় লাগে। তুমি তো জানতা আমি একলা থাকতে ভয় পাই, যেবার মা আমারে রাইখা আকাশের তারা হইলো, তারপর থেইকা আমি একা থাকতে পারিনা করঞ্জবাবু।  
আমার খুববববব কষ্ট লাগে। 

ঝঁটু কবিরাজ কি এক দাওয়াই দিছে। সূর্য ডুবতে সময় পশ্চিমমুখে ফিরে গিলতে হয়। আমি গিলে ফেলি। 

কিচ্ছুতে কিচ্ছু হয়না। 

বুকের বেদনাডা বাড়তেছে। করঞ্জবাবু ফিরবা একবার?

Ads
Ads