বাংলাদেশের জয় অঘটন, দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের

  • ৩-Jun-২০১৯ ০২:২৫ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

দুর্দান্ত জয়ে শুরু হল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। ওভালে গতকাল রোববার বাংলাদেশকে রেকর্ড রানের উচ্চতায় তুলে নিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ গড়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্কোর ৩৩০। দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াই করেছে, তবে থমকে গেছে ৩০৯ রানে।

কিন্তু এমন অসাধারণ দলীয় পারফরম্যান্সে পাওয়া জয় নাকি ‘অঘটন’! এমনটাই দাবি ভারতের জনপ্রিয় একাধিক সংবাদ মাধ্যমের।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় মিডিয়া এনডিটিভি বাংলাদেশের জয়কে সরাসরি ‘অঘটন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ম্যাচ শেষে এনডিটিভি’র স্ক্রিনে ব্রেকিং নিউজে লেখা ছিল ‘বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন’। এই লাইনের নিচে লেখা ‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে চমকে দিল বাংলাদেশ’। তবে তাদের অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে অবশ্য বাংলাদেশের বেশ প্রশংসাই করা হয়েছে।

এদিকে আরেক শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশের জয় নিয়ে করা সংবাদে শিরোনামে লিখেছে , ‘ওভালে আন্ডারডগের দিন, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ’। একই সংবাদ মাধ্যমের আরেকটি সংবাদের শিরোনাম ‘যখন ডেভিড হারিয়ে দিল গোলিয়াথকে: বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আপসেট’।

ভারতীয় মিডিয়া বুঝাতে চেয়েছে বাংলাদেশে হঠাৎ করে এমন একটা জয় পেয়েছে, যেটা তাদের প্রত্যাশা ছিল না।

ভারতীয় মিডিয়া জেনেও না জানার ভান করছে। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন এই দলের বিপক্ষেই ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে পাত্তাই পায়নি ভারতীয় ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ভারত।

ভারতের পর বাংলাদেশে সফরে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা। হাশিম আমলার নেতৃত্বে সেই সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা টাইগারদের কাছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে।

শুধু তাই নয়, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে এই বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে গেছে ভারত। মাশরাফির গতির মুখে পড়ে ১৯১ রানে অলআউট হওয়া রাহুল দ্রাবিদের নেতৃত্বাধীন ভারতকে ৫ উইকেটে হারায় হাবিবুল বাশার সুমনের নেতৃত্বাধীন দল।

২০১২ সালের এশিয়া কাপে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ভারত টাইগারদের জয়ে কুর্ণিশ করার পরিবর্তে হেয় করছে।

উল্লেখ্য, গতকাল টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রানে বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে পুরো ওভার খেললেও ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানের বেশি করতে পারেনি দ.আফ্রিকা। বাংলাদেশের দেওয়া ৩৩১ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে টাইগার বোলারদের দাপটে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দশম ওভারে মেহেদি হাসানের করা বলে রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি করে রান আউটের শিকার হন কুইন্টন ডি কক। উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিক থ্রো করে স্টাম্প ভাঙেন। প্রথম উইকেট হারায় দ.আফ্রিকা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এইডেন মার্করাম ও ফাফ ডু প্লেসিস। তবে ২০তম ওভারে এসে নিজের চতুর্থ বলে মার্করামকে সরাসরি বোল্ড করে দারুণ এক কীর্তি গড়েন সাকিব আল হাসান।

ওয়ানডেতে ৫০০০ রান ও ২৫০ উইকেটে ‘ডাবল’ আছে মাত্র চার জন ক্রিকেটারে। এইডেন মার্করামকে আউট করে সেই ডাবলের মালিক হলেন সাকিব। দ্রুততম সময়ে এই কীর্তি গড়ে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ১৯৯ ম্যাচে রেকর্ডটি হলো তার।

সেট ব্যাটসম্যান ফাফ ডু প্লেসিসকে দারুণ এক ঘূর্ণিতে বোল্ড করলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫৩ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
কিলার খ্যাত ডেভিড মিলারকে মেহেদি হাসান মিরাজের ক্যাচে ফেরান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৩ বলে ২টি চারে ৩৮ রান করেন এই ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তিনি রাসি ভন ডার ডুসেনের সঙ্গে ৫৫ রান করেছেন।

আন্দিলে ফেলুকায়োকে (৮) ফুলটস বলে সাকিব আল হাসানে ক্যাচে মাঠ ছাড়া করান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। নিজের আগের ওভারেই ৪১ রান করা রাসি ভন ডার ডুসেনকে সরাসরি বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। ৩৮ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান ডুসেন। সর্বশেষ বাউন্ডারি লাইনে থাকা সৌম্য সরকারের ক্যাচে ক্রিস মরিসকে (১০) প্যাভিলিয়নে পাঠান মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের পরের ওভারেই একপাশ আগলে রাখা জেপি ডুমিনিকে ইনসাইডেজ বোল্ড করেন ফিজ খ্যাত এই তারকা। টাইগার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান। সাইফুদ্দিন দুটি এছাড়া মিরাজ ও সাকিব একটি করে উইকেট পান।

Ads
Ads