জরিপের ফলে হতাশ ক্ষুব্ধ বিরোধীরা

  • ২১-মে-২০১৯ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে শেষ দফার ভোটগ্রহণের পর বিভিন্ন চ্যানেলের প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের ফল নিয়ে হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসসহ প্রতিটি বিজেপিবিরোধী দলই এই ফলকে আমলে না নিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে।

তারা এই জরিপের ফলকে ক্ষমতাসীন বিজেপির ষড়যন্ত্রের নমুনা হিসেবেও অভিহিত করেছে। গত রবিবার সপ্তম দফা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষের পর পরই একযোগে এই বুথ ফেরত জরিপের ফল ঘোষণা করে চ্যানেলগুলা। প্রতিটি জরিপেই আভাস দেওয়া হয়েছে, এবারও ৩০০-এর বেশি আসনে জিতে ভারতের শাসনক্ষমতা ধরে রাখতে পারে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি।

জরিপের ফল ঘোষণার পর গতকাল রাতে এক টুইটে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ভোটের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মোদি একের পর এক নাটক করে গেলেও নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে কিছুই বলেনি, যা ভারতবাসীর কাছে স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে বলেন, আমি বুথফেরত জরিপের রটনায় বিশ্বাসী নই। এটা একটা গেম প্ল্যান, যাতে এই রটনার মাধ্যমে হাজার হাজার ইভিএম বদলে দেওয়া যায়। আমি সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আবেদন জানাচ্ছি। শক্তিশালী থাকুন। আমরা সবাই একসঙ্গে লড়াই করব।

একই রকম কথা বলেন, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ডেরেক ও ব্রায়ান। তিনি বলেন, এই তথাকথিত বুথফেরত জরিপ শুধু দ্বিধাই তৈরি করবে। সবার উচিত ২৩ তারিখ মূল ফলের জন্য অপেক্ষা করা। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংও বুথফেরত জরিপ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন এর সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, পাঞ্জাবে গিয়ে আমি নিজেও ভোটারদের মনোভাব বুঝতে পারব না। তা হলে জরিপ কীভাবে ঠিক হয়। আবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের বোন প্রিয়াংকা গান্ধী এক টুইটে গৌতম বুদ্ধের একটি বাণী সবাইকে স্মরণ করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ঘৃণাকে ঘৃণা দিয়ে বন্ধ করা যায় না বরং ভালোবাসা দিয়ে বন্ধ করতে হয়। এটি একটি অপরিবর্তনীয় আইন। এদিকে জরিপের ফল প্রকাশের পর পরই ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সব বিরোধী দলের মহাজোট গঠনের চেষ্টা। এ নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল দিল্লিতে ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ বৈঠক নিয়ে বেশ আশাবাদীও ছিল কংগ্রেস। কিন্তু বহুজন সমাজবাদী পার্টির তরফ থেকে হঠাৎ জানানো হয়, দিল্লি যাচ্ছেন না মায়াবতী।

সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করার কোনো কর্মসূচিই নেই তার। সোনিয়া ছাড়াও তার ছেলে রাহুলের সঙ্গেও এদিন দেখা করার কথা ছিল মায়াবতীর। তবে তাদের এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, মহাজোটের ভবিষ্যৎ টালমাটাল নয় তো? যদিও মহাজোট গঠন নিয়ে এখনই একেবারে হতাশ হতে নারাজ কংগ্রেস। কারণ এরই মধ্যে বিরোধী দলগুলোকে জোটবদ্ধ করতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। রবিবারই তিনি রাহুল গান্ধির সঙ্গে দেখা করে লক্ষেèৗয়ে মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। পরে গতকাল সকালে আবারও তিনি দিল্লি এসে প্রথমে রাহুল ও সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ ছাড়া চন্দ্রবাবু লক্ষেয়ে শরদ পওয়ার, সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গেও দেখা করেছেন। গতকাল কলকাতায় গিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। তবে জরিপের ফল দেখার পর চন্দ্রবাবুর এই জোটের উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি মহারাষ্ট্রে বিজেপির শরিক দল শিবসেনা। তাদের মুখপত্র সামনায় দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরে লিখেছেন, অকারণে নিজেকে কাহিল করছেন কেন চন্দ্রবাবু? আশা করি আগামী ২৩ মে পর্যন্ত আপনার এই উৎসাহ বজায় থাকবে! আমাদের শুভেচ্ছা রইল। নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রে অ-বিজেপি সরকার গঠনের লক্ষ্যে মাঠে নামে কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধীরা। এ জন্য আগামী ২৩ মে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার দিন দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোকে বৈঠকে বসারও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া। খবর এনডিটিভি, জি নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের।

 

/কে 

Ads
Ads