বিশ্বকাপের জন্য বার্তা: অবশেষে স্বপ্নের শিরোপা জয়

  • ১৮-মে-২০১৯ ১০:০৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

অবশেষে স্বপ্নের ট্রফি ধরা দিল রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের জন্য। আর এটা এমন সময়ে যখন সামনেই বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ শিরোপার আগে এমন একটি সিরিজ ও ট্রফি জয় তো  বিশ্বকাপের জন্য সর্বোত্তম প্রস্তুতিও বটে। ১৭ মে। টাইগারদের জন্য পয়মন্ত একটি তারিখ। এদেশের ক্রিকেটের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক তারিখও বটে। ২০ বছর আগে এই তারিখেই ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৮ সালের ১৭ মে হায়দরাবাদে কেনিয়াকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম ওয়ানডে জিতেছিল টিম টাইগার। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের দুই দশক পূর্তির দিনে গতকাল ১৭ মে টাইগাররা জিতল প্রথম ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। অভাবনীয় কাকতাল! সেটাও আবার ৬টি ফাইনাল খেলার পর এল প্রথম শিরোপা। দেশ তো এখন বাঁধভাঙা আনন্দে ভাসতেই পারে।

কেননা, আয়ারল্যান্ড এবং উইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবারের মতো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। উইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনালে বৃষ্টি এসে বাগড়া দেয়। তবে ম্যাচ বাতিল হতে পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশই চ্যাম্পিয়ন হতো। কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্যকিছুই ভেবে রেখেছিলেন। প্রথম জয় যখন আসবেই, তখন বীরের বেশেই আসুক। তাই কর্তিত ওভারের ম্যাচে ২১০ রানের বড় টার্গেট তাড়া করে ৫ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ। যে জয়ের নায়ক দুই তরুণ তারকা সৌম্য সরকার এবং মোসাদ্দেক হোসেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে যাদের ভূমিকা আবার অধারাবাহিকও। কিন্তু তারা এবার এমন এক ম্যাচে তাদের সবটুকু মেলে ধরলেন যা না হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য হতাশার দিন হতে পারতো। কেননা, এই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষাতেই কেটে গেছে ম্যাচের পর ম্যাচ, ফাইনালের পর ফাইনাল। ঢাকা থেকে কলম্বো, সিংহল পাড় থেকে মরুর দুবাই- কখনও ২ রানে, কখনও বা ১ উইকেটে- শেষ ওভারে ক্রিকেটের ভাগ্যদেবতার নিষ্ঠুরতা কাঁদিয়ে গেছে প্রতিবার। বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে একটা ‘শাপ’ যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল সবসময়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে অবশেষে এলো সেই বহু আরাধ্যের জয়; হলো ফাইনাল-ফাঁড়ার শাপমোচন।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হয়তো প্রতিষ্ঠিত কোনো শক্তি নয়। ওয়েস্টইন্ডিজ প্রতিষ্ঠিত শক্তি হলেও হালে তাদের সত্তর-আশি দশকের সেই তেজ আর নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে এমন একটি সিরিজ বাংলাদেশের জন্য কম নয়। এই জয় বিশ্বকাপের জন্য বিশেষ সাহস যোগাবে। কেননা, দ্বিপাক্ষিক খেলায় ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবারই প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তিকে হারিয়েছে। বাকি ছিল কোনো আসরের টুর্নামেন্ট জেতা। সেটাও হয়ে গেল গত শুক্রবার। একবার যখন কোনো জয়ের দেখা মেলে তারপর সেটার ধারা কমবেশি দেখা দিতে থাকে। এবার যখন সিরিজ জয়ের দেখা মিলেছে সামনে আশা করি বাংলাদেশ আরও অনেক টুর্নামেন্ট জয়ের দেখা পাবে আশা করি।

এমনকি সামনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ কিছু একটা করে দেখাতে পারবে সেই ভরসাও আমাদের রয়েছে। ইতিপূর্বে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুখস্মৃতি ভুলে যাওয়ার নয়। এবার আমরা আরও বড় সাফল্য দেখার আশা করতেই পারি। সেই ভরসা আমরা মাশরাফি এন্ড কোং-এর রাখতেই পারি। এ দলের প্রতিটি সদস্যই আজ পরিপক্ব। এমনকি অভিষেক হওয়া জায়েদও তার সক্ষমতা মেলে ধরতে পারায় আমরা দলটিকে নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে পারি। নিশ্চয় সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। 

Ads
Ads